মহানবী (সা.) মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার অগ্রপথিক: ধর্ম উপদেষ্টা

by naymurbd1999@gmail.com

ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার অগ্রপথিক। তিনি পনেরো শ’ বছর আগে মানবাধিকারের কথা বলে গেছেন।

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন
banner

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, আধুনিক বিশ্বে জনপ্রিয় পরিভাষা মানুষের অধিকার, নারী কিংবা শিশুর অধিকার, মত প্রকাশের অধিকার প্রভৃতি বিষয়ে দেড় হাজার বছর আগেই নবী কারিম (সা.) কথা বলে গেছেন। তিনি কেবল তত্ত্বই দিয়ে যাননি, তিনি তত্ত্বকে বাস্তবায়ন করে গেছেন। এ প্রসঙ্গে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, অনারবের ওপর আরবের কিংবা আরবের ওপর অনারবের, কালো মানুষের ওপর সাদা মানুষের অথবা সাদা মানুষের ওপর কালো মানুষের বিশেষ কোনো মর্যাদা বা প্রাধান্য নেই। বর্ণবৈষম্য ও জাত্যাভিমানের অবলোপন করে গেছেন নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

রাসুল (সা.) প্রণীত মদিনার সনদকে প্রথম লিখিত সংবিধান উল্লেখ করে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, রাষ্ট্র পরিচালিত হয়ে থাকে সংবিধানের মাধ্যমে। এই সংবিধানের ধারণা প্রথম দিয়ে গেছেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। মেসোপোটেমিয়ায় হাম্বুরাবি প্রণীত ‘দি কোড অব হাম্বুরাবি’তে অনেক অসঙ্গতি আছে। কিন্তু রাসুল (সা.) দেড় হাজার বছর আগে ‘মদিনার সনদ’ নামে যে সংবিধান দিয়ে গেছেন সেটা অনন্য বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন। রাষ্ট্র সংবিধান অনুসারে চলবে- এটাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অবদান অবিস্মরণীয় উল্লেখ করে ড. খালিদ বলেন, প্রাচীন রোমান, পারস্য ও ভারতীয় সাম্রাজ্যে নারীদেরকে দোজখের দরজা ও শয়তানের মুখপাত্র হিসেবে গালমন্দ করা হতো। কিন্তু মহানবী (সা.) ঘোষণা দিলেন, মায়ের পায়ের নিচে জান্নাত। আমাদের প্রিয় নবী (সা.)-এর এই মহৎ ঘোষণা নারী জাতিকে মর্যাদার শিখরে নিয়ে অধিষ্ঠিত করেছে। পৃথিবীর ইতিহাসে তার আগে কেউ নারীকে এরূপ মার্যাদায় দেননি। এ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা হজরত আয়েশা (রা.)-এর শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে মহানবী (সা.)-এর অবদান তুলে ধরেন।

উপদেষ্টা রাসুল (সা.)-এর সিরাত মেনে চলার মধ্য দিয়ে জীবনকে আলোকিত করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানান। এর আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোঃ রেজাউল করিম অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তৃতা করেন।

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদদীনের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন ট্টেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আঃ ছালাম খান ও জবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ মোশাররফ হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ মুফতি আব্দুল মুনয়িম খাঁন মহানবী (সা.)-এর সিরাতের ওপর আলোচনা করেন।

পরে অতিথিরা ঈদ-ই- মিলাদুন্নবী (সা.)-এর উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত কেরাত, নাতে রাসুল (সা.), ক্যালিগ্রাফি ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

এনআর/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222