মিয়ানমারে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর থেকে সেনা জান্তার হামলা ভয়াবহভাবে বেড়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতি জানায়, গত ১৮ আগস্ট ভোটের দিন ঘোষণা হওয়ার পর থেকে এক মাসে অন্তত ২০টি টাউনশিপে ২৭টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এতে ১০০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও ১২২ জন। নিহতদের মধ্যে ২৭ জন শিশু, ১২ জন নারী ও তিনজন বৌদ্ধ সন্ন্যাসীও রয়েছেন।
এর আগে জুলাই মাসে ১০টি টাউনশিপে ১৯টি বিমান হামলায় ১১৮ জন নিহত ও ৯২ জন আহত হয়েছিলেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচন ঘিরে হারানো এলাকা পুনর্দখল ও দখলকৃত অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতেই জান্তা বিমান ও স্থল উভয় ধরনের আক্রমণ বাড়িয়েছে।
হামলার শিকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘নিরীহ মানুষের ওপর বিমান হামলায় আমরা চরম মানসিক আঘাত পেয়েছি। প্রতিদিন ভয়ের মধ্যে বাঁচলেও স্বৈরশাসনের পতনের আশা আমরা ছাড়িনি।’
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, শুধু বেসামরিক এলাকা নয়, অন্তত সাতটি বৌদ্ধ মঠ এবং একটি খ্রিস্টান গির্জাও হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা একে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়কে জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে চীন, রাশিয়া, ভারতসহ কিছু প্রতিবেশী দেশ এখনো জান্তার পরিকল্পিত নির্বাচনকে সমর্থন করছে। নিয়ান লিন থিট অ্যানালিটিকার গবেষক মো হেট নে বলেন, ‘যেহেতু জান্তা নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে, তাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে দখলকৃত এলাকায় আরও বিমান ও স্থল হামলা চালাবে।’
হাআমা/
