আমানুল্লাহ নাবিল মামদুহ >>
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল জাতিসংঘের ৮০ তম অধিবেশন। সেখানে বিশ্ব নেতারা অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসাবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বক্তব্য রাখেন।
দেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন অনুমোদনের বিষয়ে দেয়া প্রধান উপদেষ্টার এক বক্তব্যে ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের মধ্যে উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ-এর যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মাদ ইমতিয়াজ আলম শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর)
এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মানবাধিকার কমিশনের নামে অমানবিকতার চর্চা এদেশের সাধারণ মানুষ চায় না। যে দেশগুলোতে কমিশন রয়েছে, সেখানে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় তারা ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষায় জাতিসংঘ পরিপূর্ণভাবে ব্যর্থ।’
তিনি আরও বলেন, দেশে মানবাধিকার কমিশন স্থাপনের নামে ভিন্ন সংস্কৃতি ও চিন্তা মানুষের মগজে চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ইসলামিক জনকল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মুফতি আব্দুল হান্নান ফয়েজী বলেন, ‘জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠার নামে মুসলিমদের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় পরিচয় বিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা এই ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করি। কমিশন যদি বাস্তবিক অর্থে মানবাধিকার রক্ষা করতে চায়, তবে এটি প্রথমে ফিলিস্তিন ও অন্যান্য মুসলিম দেশে মানবাধিকার রক্ষা নিশ্চিত করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের মানুষের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক যে কোনো উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, এমন পদক্ষেপ প্রতিহত করতে সক্রিয় হোক।’
অন্যদিকে, জাতীয় মুফতী বোর্ড ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খুল হাদিস আল্লামা খোরশেদ আলম কাসেমী মন্তব্য করেন, ‘মানবাধিকার কমিশনের নামে যদি দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কার্যক্রম চালানো হয়, তা কখনো গ্রহণযোগ্য নয়। কমিশনকে অবশ্যই ইসলামি মূল্যবোধ ও বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, এ ধরনের বিষয় নিয়ে যথাযথ অবস্থান নেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি মুসলিম দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় জাতিসংঘের পদক্ষেপ বিবেচনা করা উচিত। কোনোরকম ভিন্ন সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়া জাতিসংঘের মূল উদ্দেশ্যের বিরোধী।’
সার্বিকভাবে ইসলামি নেতৃত্বের বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়েছে, দেশে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার নামে যদি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ কার্যক্রম চালানো হয়, তা প্রতিরোধ করা হবে এবং জনগণ তাদের অধিকার ও সংস্কৃতি রক্ষায় সোচ্চার থাকবে।
হাআমা/
