৩৬ নিউজ ডেস্ক: শুরু হচ্ছে আরবি নববর্ষ ১৪৪৮ হিজর। নববর্ষের প্রথম রাতে প্রথম পবিত্র কাবা শরিফে পরানো হবে নতুন গিলাফ (কিসওয়া)।
আজ সোমবার (১৫ জুন) এশার নামাজের পর মক্কার মসজিদুল হারামে শুরু হবে এই ঐতিহাসিক আয়োজন, প্রতিস্থাপিত হবে কাবার নতুন গিলাফ। বছরের পর বছর ধরে চলে আসা সৌদি আরবের ঐতিহ্য অনুযায়ী, প্রতি হিজরি বছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ মহররম পবিত্র কাবার গিলাফ পরিবর্তন করা হয়। সৌদি প্রশাসনের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, আধুনিক কারিগরি দক্ষতা ও নিখুঁত কারুকার্যের এক অনন্য মেলবন্ধনে প্রস্তুত করা হয়েছে এবারের কিসওয়া। প্রতিবছরের মতো এবারও বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান এই পবিত্র আয়োজন গভীর আগ্রহের সঙ্গে প্রত্যক্ষ করবেন এবং নতুন বছরের সূচনায় কাবার নতুন সাজকে স্বাগত জানাবেন।
অত্যন্ত সূক্ষ্ম কারুকাজ ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে নতুন কিসওয়া। মক্কায় অবস্থিত ‘কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্স ফর দ্য হোলি কাবা কিসওয়া’র একদল বিশেষজ্ঞ কারিগর দীর্ঘ প্রায় ১১ মাসের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই গিলাফ তৈরির কাজ সম্পন্ন করেছেন। নতুন কিসওয়াটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৪৭টি প্রাকৃতিক রেশমের প্যানেল। এতে সোনালি ও রুপালি প্রলেপযুক্ত সুতা দিয়ে অত্যন্ত নিখুঁত এমব্রয়ডারি ও ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে পবিত্র কোরআনের ৬৮টি আয়াত খচিত রয়েছে। পুরো গিলাফটির মোট ওজন প্রায় ১ হাজার ৪১৫ কেজি। একটি কিসওয়ার পরিপূর্ণতা পাওয়ার পেছনে সাতটি সুনির্দিষ্ট ধাপ রয়েছে। ধাপগুলো হলো রেশম প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য পানি বিশুদ্ধকরণ, রেশম সুতা ধোয়া ও সুনির্দিষ্ট রঙে রাঙানো, স্বয়ংক্রিয় তাঁতে বয়ন করে সুতাকে কাপড়ে রূপ দেওয়া, কোরআনের আয়াত ও আলংকারিক নকশা মুদ্রণ (ক্যালিগ্রাফি), কিসওয়ার বিভিন্ন অংশ সুনির্দিষ্ট মাপে সংযুক্ত করে সেলাই, সোনা ও রুপার প্রলেপযুক্ত সুতা দিয়ে ফুটিয়ে তোলা নান্দনিক সূচিকর্ম (এমব্রয়ডারি) এবং সর্বশেষ ধাপে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কিসওয়ার পরিপূর্ণতা নিশ্চিত করা।
কিসওয়া পরিবর্তনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসায় পবিত্র মসজিদুল হারামের ভেতরে প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত। নতুন কিসওয়ার বিভিন্ন অংশ এরই মধ্যে নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গিলাফের গায়ে থাকা এমব্রয়ডারি, নকশা ও পবিত্র কোরআনের আয়াতগুলো নিখুঁত আছে কি না, তা শেষ মুহূর্তের জন্য পরীক্ষা করে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এই গুরুদায়িত্ব পালনের জন্য একটি বিশেষ কারিগরি ও প্রকৌশলী দলকে পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল প্রক্রিয়াটি শুরু হবে কাবা শরিফের বর্তমান গিলাফে থাকা সোনার প্রলেপ দেওয়া অলংকরণ ও এমব্রয়ডারি করা অংশগুলো সাবধানে খোলার মধ্য দিয়ে। এরপর পুরোনো গিলাফ একে একে নামিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চার কোণে নতুন কিসওয়া জুড়ে দেওয়া হবে। পুরো কাজটি একটি নির্দিষ্ট ধারাবাহিকতা মেনে করা হয়, যাতে কাবার চারপাশের প্রতিটি অংশ একেবারে সমান্তরালভাবে বসে। একই রাতে কাবা শরিফকে ঘিরে থাকা এমব্রয়ডারি করা বেল্ট (হিজাম) ও কাবার দরজার ওপরের বিশেষ পর্দাটিও লাগানো হবে।
টিএইচএ/
