আফগানিস্তানে ইমরাতে ইসলামিয়া সরকারের কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশি আলেমরা নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং বিচারব্যবস্থার দিকগুলো বিশেষভাবে আকৃষ্ট হয়েছে। সম্প্রতি আফগানিস্তান সফর শেষে দেশে ফিরে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক প্রথম আলোর সঙ্গে অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন।
মাওলানা মামুনুল হক জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে নিরাপত্তার অবস্থা নজরকাড়া। দেশজুড়ে মানুষের হাতে ভারী অস্ত্র থাকা সত্ত্বেও গত চার বছরে মারামারি, ডাকাতি বা রক্তপাতের ঘটনা নেই। এ ছাড়া অর্থনৈতিক অবস্থা সীমিত সংস্থান থাকা সত্ত্বেও দ্রুত উন্নয়ন ঘটানো হচ্ছে; আট লাখ পরিবারের জন্য তারা নিয়মিত ভাতা প্রদান করছে, শুধু সরকারের সমর্থক নয়, যুদ্ধকালীন প্রতিপক্ষের এতিম ও বিধবাদেরকেও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
বিচারব্যবস্থা সংক্রান্ত অভিজ্ঞতাও আলেমদের অত্যন্ত আকৃষ্ট করেছে। আফগানিস্তানে নিম্ন, আপিল ও সর্বোচ্চ আদালতের তিনটি স্তরে বিচার পরিচালিত হয়। মামলায় কোনো উকিল না থাকলেও প্রথাগতভাবে বাদী ও বিবাদী নিজেই মামলা পরিচালনা করতে পারে।
মাওলানা মামুনুল হক জানান, ‘৫০ শতাংশের বেশি মামলা কোনো উকিল ছাড়া নিষ্পত্তি হয়। এটা আমাদের সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে।’
নিরাপত্তা ও বিচার ব্যবস্থার পাশাপাশি আফগানিস্তানে নারী শিক্ষার বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে। মাওলানা বলেন, “নারীদের শিক্ষার জন্য পৃথক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে মেয়েরা ক্লাস সিক্স পর্যন্ত স্কুলে যাচ্ছে। উচ্চশিক্ষা অল্প সময়ের জন্য স্থগিত আছে, তবে নতুন কারিকুলাম তৈরি করা হচ্ছে। সরকার আশ্বস্ত করেছে, দ্রুত মেয়েদের উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।”
মাওলানা আরও যোগ করেন, আফগান সরকারের পক্ষ থেকে মেয়েরা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারছে, বোরকা বাধ্যতামূলক নয়। মেয়েরা হোটেল, রেস্টুরেন্ট, বাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় স্বাভাবিকভাবে উপস্থিত হচ্ছে।
হাআমা/
