নর্থসাউথ শিক্ষার্থীর কোরআন অবমাননায় উত্তাল দেশ, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

by hsnalmahmud@gmail.com

হাসান আল মাহমুদ >>

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী অপূর্ব পাল কর্তৃক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পবিত্র কোরআন অবমাননার একটি ভিডিও ভাইরাল হতেই দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও নিন্দা ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার (৪ অক্টোবর) রাতে পুলিশ অপূর্ব পালকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে গেলে জনরোষে তিনি আহত হন এবং পরে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। রবিবার ভোরে তাকে আদালতে পাঠানোর তথ্যটি ভাটারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন
banner

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন ইসলামি দল, আলেম-ওলামা, ইসলামী সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা কোরআন অবমাননার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব ও পেছনের ষড়যন্ত্রের তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালরে সামনে তাওহিদী জনতার বিক্ষোভসহ আজ সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ছাত্র জমিয়ত, ইসলামী যুব আন্দোলন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন ও বৃহত্তর উত্তরা উলামা পরিষদসহ একাধিক সংগঠন সমানভাবে দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করে পৃথক বিবৃতি দিয়েছে। এ ছাড়াও বিশিষ্ট ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ, বিশিষ্ট দাঈ আলোচক ড. মিজানুর রহমান আজহারী, জাতীয় মুফতী বোর্ড ফাউন্ডেশনের প্রধান মুফতি খোরশেদ আলম কাসেমী এবং অন্যান্য ধর্মীয় শিক্ষাবিদরা কোরআনের মর্যাদা রক্ষায় সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর আমীর আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান বলেছেন, ‘নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অপূর্ব রাদের কোরআন অবমাননার জঘন্য দৃশ্য দেশের কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলিম জনতার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়েছে। ভিডিওতে তার অঙ্গভঙ্গি ও কথাবার্তা দেখে বোঝা যায়, এটি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে। ঘটনার পেছনে দেশি-বিদেশি কোনো এজেন্সির সম্পৃক্ততা থাকলে সরকারকে তা খুঁজে বের করতে হবে। আমরা দাবি করছি, যদি দৃষ্টান্তমূলক বিচার না করা হয়, তবে ঢাকা অভিমুখে লং মার্চের ডাক দেওয়া হবে।’

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেন, ‘এ ঘটনা দেশের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়েছে। দোষীকে দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করতে হবে, যাতে আর কেউ এই ধরণের কাজের সাহস না করে। সরকারের উচিত ঘটনার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র আছে কি না তা সুষ্ঠ তদন্ত করা।’

বিশিষ্ট ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেছেন, ‘নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যা ঘটেছে, তা পূর্বের সব অপকর্মকে ছাড়িয়ে গেছে। অপূর্ব পালকে মানসিক রোগী হিসেবে আখ্যা দিয়ে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে—যা অগ্রহণযোগ্য। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও দায় এড়াতে পারবে না। এটি স্পষ্টভাবে ইসলামবিরোধী এজেন্ডার একটি অংশ।’

দাঈ ও আলোচক ড. মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী বলেন, ‘কেবল কোরআন নয়, কোনো ধর্মগ্রন্থের অবমাননাই বরদাশত করা হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অপূর্ব পালের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ধরনের ঘটনা দেশের অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে।’

ইসলামিক জনকল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মুফতি আব্দুল হান্নান ফয়েজী মন্তব্য করেছেন, ‘পবিত্র কোরআন আল্লাহর কালাম, এর প্রতি অবমাননা শুধু ধর্মীয় অপরাধ নয়, মানব সভ্যতার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ। সরকারকে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, নাহলে সমাজে অশান্তি সৃষ্টি হবে।’

জাতীয় মুফতী বোর্ড ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুফতি খোরশেদ আলম কাসেমী বলেন, ‘পবিত্র কোরআন বিশ্বমানবতার হিদায়াতের আলোকবর্তিকা। এর প্রতি অবমাননা ঈমান ও ইসলামের সঙ্গে শত্রুতার সমতুল্য। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’

লেখক ও সাংবাদিক জহির উদ্দিন বাবর মন্তব্য করেছেন, ‘ধর্মগ্রন্থের এ ধরনের অবমাননা বাংলাদেশের ইতিহাসে আগে কখনও হয়নি। সরকারের উচিত ঘটনার পেছনে কে ইন্ধন দিয়েছে তা খুঁজে বের করা।’

এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের সভাপতি খালেদ মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস রুম্মান বলেন, ‘পবিত্র কোরআন শরীফের অবমাননা কোনোভাবেই সহ্যযোগ্য নয়। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—অবিলম্বে অপূর্ব পালকে গ্রেপ্তার করে ইসলামী আইনের আলোকে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করতে হবে। তারা আরও বলেন—
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কেউ যেন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার দুঃসাহস না দেখায়, সে বিষয়ে কঠোর আইনগত নজরদারি ও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি ইউসুফ আহমাদ মানসুর ও সেক্রেটারি জেনারেল শেখ মাহবুবুর রহমান নাহিয়ান বলেন, ‘পুরো ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামবিরোধী মনোভাবের প্রমাণ। একজন মানসিক রোগী কীভাবে এমন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা চালাতে পারে তা প্রশ্নবিদ্ধ। দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অপরিহার্য।’

ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ জানিয়েছে, ‘অপরাধী অপূর্ব পালের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়ও তদন্ত করতে হবে। ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় কঠোর আইন প্রণয়ন ও নজরদারি জরুরি। আইনগত ব্যবস্থা না নিলে শান্তিপূর্ণ গণপ্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

এই ঘটনায় ধর্মপ্রাণ মুসলিম জনগণকে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে, তবে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে সরকারের ওপর চাপ বেড়েছে।

বৃহত্তর উত্তরা উলামা পরিষদের সভাপতি মুফতি কামালুদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মুফতি নেয়ামতুল্লাহ আমিন বলেন, ‘পবিত্র কোরআনের অবমাননা কোনো একক ব্যক্তির অপরাধ নয়, এটি মুসলিম জাতির হৃদয়ে আঘাত হেনেছে। অবিলম্বে দোষীকে আইনের আওতায় আনা হোক, অন্যথায় দেশব্যাপী গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।’

তাঁরা বলেন, ‘ইসলামের পবিত্র গ্রন্থ কোরআনকে অবমাননা করার মতো ঘৃণ্য কাজ কোনোভাবেই সহ্য করা যায় না। একজন ছাত্রের দ্বারা সংঘটিত এই অপকর্ম প্রমাণ করে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নৈতিক শিক্ষার মারাত্মক অবক্ষয় ঘটছে।’
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, অবিলম্বে এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় দেশব্যাপী গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয় — ‘আমরা শান্তিপ্রিয় মুসলমান। কিন্তু বারবার আমাদের ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে উপহাস করা হচ্ছে। আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বাধ্য হয়ে রাজপথে নেমে আসতে হবে।’
নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘যে দেশে পবিত্র কোরআনের অবমাননা হয় এবং সরকার নীরব থাকে, সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। আমরা চাই, অবিলম্বে তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হোক।’

হাআমা/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222