ইসরায়েলের পার্লামেন্টে দুটি বিতর্কিত বিল উপস্থাপন করা হয়েছে। এর একটি ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার অনুমতি, অন্যটি সরকারের হাতে আদালতের অনুমোদন ছাড়াই বিদেশি গণমাধ্যম স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা।
প্রস্তাবিত এই দুই আইন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অতিদক্ষিণপন্থী মিত্রদের পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হয়েছে।
প্রথম বিলটি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের দলের উদ্যোগে প্রস্তাব করা হয়। এতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি নাগরিকদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করে বা রাষ্ট্রের ক্ষতি করার অভিযোগে অভিযুক্ত এমন ফিলিস্তিনি বন্দিদের ফাঁসি দেওয়া যাবে। প্রস্তাবটি প্রথম দফার ভোটে ১৬ এর বিপরীতে ৩৯ ভোটে গৃহীত হয়েছে।
বিতর্কিত মন্ত্রী বেন-গভির এক্স (টুইটার) প্ল্যাটফর্মে এই ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে একে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন যে, তার দল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে।
তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিলটির নিন্দা জানিয়ে সতর্ক করেছে যে, এটি ফিলিস্তিনিদের হত্যা সহজ করবে এবং অধিকৃত অঞ্চলে ইসরায়েলের বৈষম্যমূলক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
বিল আলোচনার সময় আরব এমপি আয়মান ওদেহ ও বেন-গভিরের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়, যা পরে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
একই অধিবেশনে আইনপ্রণেতারা তথাকথিত ‘আল জাজিরা আইন’ স্থায়ী করার প্রস্তাবও উত্থাপন করেন। বর্তমানে এই আইন সরকারকে ‘ইসরায়েলের নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত করছে’ এমন অভিযোগে বিদেশি সংবাদমাধ্যমকে সাময়িকভাবে বন্ধ করার অনুমতি দেয়।
লিকুদ পার্টির এমপি অ্যারিয়েল কালনারের প্রস্তাবিত নতুন সংশোধনীর মাধ্যমে আদালতের নজরদারি বাদ দেওয়া যাবে। এই প্রস্তাব প্রাথমিকভাবে ৫০ ভোট পক্ষে ও ৪১ ভোট বিপক্ষে গৃহীত হয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী শ্লোমো কারি পার্লামেন্টকে দ্রুত বিলটি পাসের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলবে এবং সাংবিধানিক নীতির পরিপন্থী হবে।
উল্লেখ্য, মূল আইনটি ২০২৪ সালের এপ্রিলে কার্যকর করা হয়েছিল, যখন নেতানিয়াহু সরকার গাজায় গণহত্যার যুদ্ধের খবর প্রচারের অভিযোগে ইসরায়েলে আল জাজিরার অফিস বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল।
সমালোচকরা বলছেন, এই দুটি বিল চলমান সামরিক হামলা ও ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক গ্রেপ্তারের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলি নেতৃত্বের ক্রমবর্ধমান স্বৈরাচারী প্রবণতার প্রতিফলন।
সূত্র: টিআরটি গ্লোবাল।
অনুবাদ: আমিরুল ইসলাম লুকমান
এআইএল/
