দেশে ক্রমবর্ধমান ইসলামবিরোধী বয়ান ও পরিকল্পিত ন্যারেটিভ তৈরির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দাওয়াতি ও মানবিক সংগঠন পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশ। সংগঠনটি বলেছে, এই বিদ্বেষমূলক বয়ানই আজ রাষ্ট্রযন্ত্রের বৈষম্যমূলক আচরণ, আলেম–ওলামা ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে গ্রেফতার এবং কর্পোরেট মিডিয়াভিত্তিক পক্ষপাতদুষ্ট প্রচারণার ভিত্তি তৈরি করছে।
সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির আমির ড. মাওলানা শহীদুল ইসলাম ফারুকী বলেন, আইন প্রয়োগের নামে চলমান এই বৈষম্য নাগরিক অধিকার, ন্যায়বিচার এবং ঘোষিত ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর দর্শনের সঙ্গে স্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক। তিনি বলেন, “অপরাধ হলে তার বিচার আইন অনুযায়ী হবে—এতে কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু পরিচয়, পোশাক বা মতাদর্শের ভিত্তিতে মানুষকে সন্দেহভাজন বানানো আইনের শাসনের পরিপন্থী।”
বিবৃতিতে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাওলানা আতাউর রহমান বিক্রমপুরী ও মাওলানা আইনুল হক কাসেমী–এর আটক ও গ্রেফতার প্রক্রিয়া গভীর উদ্বেগজনক। বিশেষ ক্ষমতা আইনের ব্যবহার এবং গভীর রাতে সাদা পোশাকে তুলে নেওয়ার ঘটনা পূর্ববর্তী দমনমূলক শাসনামলেরই পুনরাবৃত্তি বলে মন্তব্য করেন তিনি। সরাসরি সহিংসতার অভিযোগ থাকলে রাষ্ট্রকে তা সুস্পষ্ট প্রমাণসহ উপস্থাপন করার আহ্বান জানান তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টকে অজুহাত বানিয়ে গ্রেফতারের ঘটনাও সমালোচনা করে ড. ফারুকী বলেন, সংশ্লিষ্ট পোস্টগুলোতে কোনো উসকানি নেই। অথচ অন্যান্য রাজনৈতিক ধারার প্রকাশ্য উসকানির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ। এতে আইনের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে কঠোরতা মূলত প্রয়োগ করা হচ্ছে মাদরাসা শিক্ষার্থী, আলেম ও সাধারণ মানুষের ওপর। যেখানে অপরাধের মানদণ্ড হয়ে উঠছে পরিচয়, প্রমাণ নয়। একই সঙ্গে সরকারি বিবৃতিতে ‘কওমি মাদরাসা’ পরিচয় আলাদা করে তুলে ধরা একটি পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে সন্দেহের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর শামিল বলে উল্লেখ করা হয়।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নীরবতাকে হতাশাজনক আখ্যা দিয়ে সংগঠনটি জানায়, অধিকার যদি সবার জন্য সমান না হয়, তবে তা অর্থহীন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি শহীদ শরীফ উসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে দীর্ঘসূত্রতা এবং কর্পোরেট মিডিয়া সংশ্লিষ্ট ঘটনায় রাষ্ট্রের দ্রুততার বৈপরীত্য ন্যায়বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতির শেষাংশে পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশ সতর্ক করে বলে, ইসলামবিরোধী বয়ান, কর্পোরেট মিডিয়া ও এলিট ন্যারেটিভের প্রভাবে যদি রাষ্ট্রীয় আচরণ পরিচালিত হতে থাকে, তবে সমাজে কাঠামোগত বৈষম্য স্থায়ী রূপ নেবে এবং ধর্মীয় জনগোষ্ঠী দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত হবে। এ ধরনের প্রবণতা অবিলম্বে বন্ধ করে রাষ্ট্রকে নিরপেক্ষ, ন্যায়ভিত্তিক ও আইনসম্মত পথে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়।
টিএইচএ/
