ফল বিপর্যয়ের মধ্যেও উজ্জ্বল আলিয়া মাদ্রাসা বোর্ড, বাড়ছে আলিমে ভর্তি

by hsnalmahmud@gmail.com

আমানুল্লাহ নাবিল মামদুহ >>

চলতি বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। এতে অনুত্তীর্ণ হয়েছেন ৫ লাখ ৮ হাজার ৭০১ শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় সামান্য কমলেও বোর্ডভিত্তিক হিসাবে এবারও শীর্ষে রয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড।

বিজ্ঞাপন
banner

যেখানে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫৭ দশমিক ১২ শতাংশ, সেখানে মাদ্রাসা বোর্ডের আলিম পরীক্ষায় পাসের হার ৭৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ৬৭ শতাংশ। সামগ্রিক ফলাফল বিপর্যয়ের মধ্যেও মাদ্রাসা বোর্ডের এই অর্জন নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য।

আলিম স্তরে ভর্তিতে ইতিবাচক পরিবর্তন

বোর্ডের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিগত বছরগুলোতে দাখিল (এসএসসি) উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অর্ধেকেরও কম আলিম স্তরে ভর্তি হতো। তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর এই চিত্রে পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে আলিম স্তরে শিক্ষার্থী ভর্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

এ প্রেক্ষাপটে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে দাখিল স্তরে ব্যবসায় শিক্ষা শাখা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টির কারিকুলাম ও পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

নেতিবাচক ধারণা থেকে ইতিবাচক পরিবর্তন

বোর্ড কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে সমাজে নেতিবাচক প্রচারণা ছিল। এর ফলে ইবতেদায়ি ও দাখিল স্তরে ভর্তি থাকলেও পরবর্তী ধাপে শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে সাধারণ কলেজমুখী হতেন। আলিম সনদ নিয়ে উচ্চশিক্ষায় সমস্যা হতে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এই স্তর এড়িয়ে যেতেন।

তবে গণঅভ্যুত্থানের পর মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসায় এর প্রভাব পড়েছে ভর্তি সংখ্যায়।

পরিসংখ্যানে প্রবণতার পরিবর্তন

২০২২ সালে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ লাখ ৬০ হাজার ১৩২ জন, পাস করে ২ লাখ ১৩ হাজার ৮৮৩ জন। কিন্তু দুই বছর পর আলিম পরীক্ষায় অংশ নেয় মাত্র ৮৫ হাজার ৫৫৮ জন।
২০২৩ সালেও একই প্রবণতা দেখা যায়। দাখিলে অংশ নেয় ২ লাখ ৯৫ হাজার ৫২০ জন, কিন্তু দুই বছর পর আলিমে অংশ নেয় মাত্র ৮৬ হাজার ৬০১ জন।

তবে সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের দাখিল উত্তীর্ণদের মধ্যে প্রায় দেড় লাখ শিক্ষার্থী ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষায় অংশ নিতে যাচ্ছে — যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের পরিশ্রম ও ফলাফলের ব্যাখ্যা

বোর্ডের কন্ট্রোলার অব পাবলিকেশন্স প্রফেসর এফ এম শাকিরুল্লাহ বলেন,
“মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের তুলনায় চারটি বিষয় বেশি পড়ে— কোরআন, হাদিস, আরবি ও ফিকাহসহ মোট ১৭০০ নম্বরের পরীক্ষা দেয়। পাশাপাশি তারা সাধারণ বোর্ডের মতোই বাংলা, ইংরেজি, বিজ্ঞান ও গণিত পড়ে। নিয়মিত ইবাদত ও পড়াশোনার বাইরে অন্য বিষয়ে মনোযোগ কম থাকায় তারা পড়াশোনায় বেশি মনোযোগী হয়।”

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. কামরুল আহসান বলেন,
“নেতিবাচক প্রচারণা ও সামাজিক ট্যাগিংয়ের কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ভয় ছিল। তবে বাস্তবে দেখা গেছে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা কঠোর পরিশ্রম করে এবং পরীক্ষায় ভালো করাকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে দেখে।”

বোর্ড চেয়ারম্যানের মন্তব্য

বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মিঞা মো. নুরুল হক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘মাদ্রাসা শিক্ষার মান ভালো বলেই বুয়েট, মেডিকেল কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা শীর্ষ স্থান অর্জন করছে। শিক্ষার্থীদের আমানত হিসেবে বিবেচনা করে শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও নিয়মিত মোটিভেশনই ভালো ফলের অন্যতম কারণ।’

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ছে এবং আগামীতেও আলিম স্তরে শিক্ষার্থী ভর্তির হার বাড়বে বলে তিনি আশাবাদী।

হাআমা/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222