আব্দুল্লাহ কাসিম আজওয়াদ >>
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনে জমা পড়েছে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের সম্পদ ও আয়ের হলফনামা। এসব হলফনামায় উঠে এসেছে কে কত সম্পদের মালিক, আয় কোথা থেকে আসে, কার নামে কত জমি, বাড়ি, নগদ অর্থ, বিনিয়োগ, মামলা ও দায় রয়েছে— তার বিস্তারিত বিবরণ। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এসব তথ্য জনগণের জানার অধিকার রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের দাখিল করা হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।
বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্পদ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী হিসেবে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে সম্পদের তথ্য দাখিল করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আয়কর রিটার্ন ও হলফনামার ভিত্তিতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের মোট সম্পদ এবং আয়ের বিস্তারিত উঠে এসেছে।
আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী, তারেক রহমানের মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৯৬ লাখ ৮০ হাজার ১৮৫ টাকা। তার বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৩৫৩ টাকা, এবং সে অনুযায়ী তিনি ১ লাখ ১ হাজার ৪৫৩ টাকা আয়কর দিয়েছেন।
তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের ঘোষিত সম্পদ ১ কোটি ৫ লাখ ৩০ হাজার ১৯১ টাকা। তার বার্ষিক আয় ৩৫ লাখ ৬০ হাজার ৯২৫ টাকা, এবং তিনি ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৭১৩ টাকা আয়কর দিয়েছেন।
হলফনামা অনুযায়ী, তারেক রহমান দ্বৈত নাগরিক নন। বর্তমান ঠিকানা ঢাকার গুলশান এভিনিউ, এন-ই-ডি-৩/বি। শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চ মাধ্যমিক, বয়স ৫৭ বছরের বেশি, এবং পেশা হিসেবে রাজনীতি উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। ২০০৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ৭৭টি মামলার মধ্যে কিছু খালাস, কিছু খারিজ বা প্রত্যাহার এবং কিছুতে অব্যাহতি পেয়েছেন।
সম্পদের বিবরণ অনুযায়ী, তারেক রহমানের নামে কোনো বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট বা বাণিজ্যিক ভবন নেই। শেয়ার, বন্ড ও সঞ্চয়পত্রে তার বিনিয়োগ ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৩৫৩ টাকা। ব্যাংক আমানত ও নগদ অর্থ মিলিয়ে আছে ৩১ লাখ ৫৮ হাজার ৪২৮ টাকা। স্ত্রীর ব্যাংক ও নগদ সম্পদ ৬৬ লাখ ৫৪ হাজার ৭৪৭ টাকা। স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ প্রায় ৫ লাখ টাকা, কোম্পানির শেয়ার ৪৫ লাখ টাকা এবং কোম্পানিতে বিনিয়োগ দেখানো হয়েছে ১৮ লাখ টাকা।
তারেক রহমানের নামে ব্যাংকে ৯০ লাখ ২৪ হাজার ৩০৭ টাকার এফডিআর এবং অন্যান্য আমানত ১ লাখ ২০ হাজার টাকা রয়েছে। স্ত্রীর নামে ৩৫ লাখ টাকার এফডিআর ও ১৫ হাজার ২৬০ টাকার সঞ্চয়ী আমানত রয়েছে। অর্জনকালে কেনা ২ হাজার ৯৫০ টাকার গহনা ও ১ লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকার আসবাবপত্রও আছে। কোনো আগ্নেয়াস্ত্র বা বিদেশে স্থাবর–অস্থাবর সম্পদ নেই।
যদিও তারেক রহমানের নিজের নামে কোনো গাড়ি বা কৃষিজমি নেই, তবে ২.০১ একর ও ১.৪ শতাংশ অকৃষি জমি এবং ২.৯ শতাংশ আবাসিক জমি তার নামে আছে। স্ত্রীর নামে যৌথ মালিকানায় ১১১.২৫ শতাংশ জমি ও ৮০০ বর্গফুট আয়তনের দুইতলা ভবন রয়েছে।
হলফনামা অনুযায়ী, তারেক রহমান, তার স্ত্রী বা কোনো নির্ভরশীলের নামে কোনো ঋণ, সরকারি পাওনা বা দায় নেই।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের আয় ও সম্পদ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ২ লাখ ৭৩ হাজার ৬৪০ টাকা। এর মধ্যে নগদ রয়েছে ৬০ লাখ ৭৬ হাজার ৪৯৭ টাকা এবং স্বর্ণ রয়েছে ১০ ভরি। সোমবার ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হলফনামায় তিনি এসব তথ্য উল্লেখ করেছেন।
নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, ডা. শফিকুর রহমানের নামে ১১ দশমিক ৭৭ শতক জমির ওপর একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ২৭ লাখ টাকা। পেশা হিসেবে তিনি চিকিৎসক বলে উল্লেখ করেছেন। তার মালিকানায় দুই লাখ টাকার ইলেকট্রিক সামগ্রী রয়েছে।
হলফনামায় আরও জানানো হয়, বন্ড, ঋণপত্র এবং স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয়-এমন বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার থেকে তার বিনিয়োগের পরিমাণ ২৭ লাখ ১৬ হাজার ৮৮০ টাকা। তিনি কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেননি বলেও উল্লেখ করেছেন।
ডা. শফিকুর রহমানের নামে ২ একর ১৭ শতক কৃষিজমি রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ১৭ লাখ ৭১ হাজার টাকা। বর্তমানে তার হাতে থাকা সম্পদের পরিমাণ ৪৭ লাখ ২৫ হাজার ৮৩৪ টাকা। কৃষিখাত থেকে তার বার্ষিক আয় তিন লাখ টাকা বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীমের আয় ও সম্পদ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনিই পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম নির্বাচনে প্রার্থী হননি। হয়েছেন তাঁর ভায়েরা। তাঁর ভাই বরিশাল-৫ (সিটি–সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর জোটপ্রার্থী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির শায়খ চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম তার নির্বাচনী হলফনামায় রয়েছে ১৮৭ ভরি স্বর্ণালংকার, যা উপহার হিসেবে পাওয়া বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
হলফনামায় বলা হয়েছে, ফয়জুল করীমের স্ত্রীর কাছে নগদ টাকা রয়েছে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা। পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে তার স্ত্রীর মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৩ কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।
নিজের পেশা সম্পর্কে ফয়জুল করীম হলফনামায় শিক্ষকতা ও দাওয়াত কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেছেন। তার স্ত্রীর পেশা দেখানো হয়েছে গৃহিণী ও ব্যবসায়ী।
অস্থাবর সম্পদের হিসাবে দেখা যায়, ফয়জুল করীমের হাতে নগদ রয়েছে ৩১ লাখ ১২ হাজার ৪৭ টাকা। তবে ব্যাংকে জমা রয়েছে মাত্র ১ হাজার ১৭৬ টাকা। অন্যদিকে, তার স্ত্রীর নামে কোনো ব্যাংক জমা নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
হলফনামায় আরও জানা যায়, ফয়জুল করীমের নামে তিনটি মামলা ছিল। আয়ের উৎস হিসেবে তিনি দেশের ভেতরে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া থেকে বছরে ৩ লাখ ২২ হাজার টাকা, মাহফিল থেকে ৪ লাখ টাকা এবং শিক্ষকতা পেশা থেকে বছরে ৭ লাখ ৬ হাজার টাকা আয় দেখিয়েছেন।
অস্ত্র সংক্রান্ত তথ্যে তিনি একটি ২২ বোর রাইফেল থাকার কথা উল্লেখ করেছেন। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ৬০ শতাংশ কৃষি জমি এবং ৩৭ দশমিক ৬০ শতাংশ অকৃষি জমি। এসব অস্থাবর সম্পদের মূল্য দেখানো হয়েছে ৩৩ লাখ ১৩ হাজার ২২৩ টাকা।
স্থাবর সম্পদের হিসাবে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, তার নিজের নামে ২ হাজার ৪৩৬ শতাংশ কৃষি জমি রয়েছে, যার মূল্য ১ কোটি ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৬০ টাকা। এছাড়া ২ দশমিক ৪০ শতাংশ অকৃষি জমির মূল্য দেখানো হয়েছে ৩ লাখ ৭৪ হাজার ১৪৮ টাকা। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমির পরিমাণ রয়েছে ৩৭ দশমিক ৬০ শতাংশ।
এছাড়াও পৈতৃক সূত্রে পাওয়া বাণিজ্যিক ভবন (দোকান) ৬৬১ বর্গফুট এবং একটি অ্যাপার্টমেন্ট (ফ্ল্যাট) ২ হাজার ১৩ বর্গফুট দেখানো হয়েছে। এসব সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ছিল ১ কোটি ৫ লাখ ৬ হাজার ৭০৮ টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ১৫ লাখ ২০ হাজার ১২৪ টাকা।
আয়কর সংক্রান্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ফয়জুল করীম তার বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ১৪ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ টাকা এবং মোট সম্পদ ১ কোটি ৬৪ লাখ ৯ হাজার ৯৩১ টাকা। এ জন্য তিনি আয়কর পরিশোধ করেছেন ৯৬ হাজার ৪৭৫ টাকা। একই সময়ে তার স্ত্রী ৬ লাখ টাকা আয় ও ৩২ লাখ ৬০ হাজার ২০০ টাকা সম্পদ দেখিয়ে আয়কর দিয়েছেন ১৫ হাজার টাকা।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের আয় ও সম্পদ
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হকের পেশা শিক্ষকতা। তাঁর বার্ষিক আয় ৮ লাখ ৭৬ হাজার ৮৯০ টাকা। এর মধ্যে ব্যবসা থেকে বছরে আয় ৬ লাখ ৫৮ হাজার ৪৪৪ টাকা। মামুনুল হকের সম্পদ রয়েছে ১ কোটি ৬৭ লাখ ৯১ হাজার টাকার। হাতে নগদ অর্থ আছে ৮৩ লাখ ২ হাজার ৮৩৭ টাকা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ আসনের প্রার্থী হিসেবে দেওয়া হলফনামায় তিনি এসব তথ্য দিয়েছেন। হলফনামা অনুযায়ী, খেলাফত মজলিসের এই নেতার ব্যাংকে কোনো টাকা নেই। বন্ড ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জ তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় কোম্পানির শেয়ারের পরিমাণ ১ লাখ টাকা। ২ লাখ টাকার আসবাবপত্র আছে, নেই আগ্নেয়াস্ত্র। ৮১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৫৮ টাকা মূল্যের অকৃষি জমি আছে। বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, ভবন, কৃষি জমি নেই।
আয়কর রিটার্নে আয়ের পরিমাণ ৮ লাখ ৭৬ হাজার ৮৯০ টাকা দেখিয়েছেন। আয়কর রিটার্নে সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৬৭ লাখ ৯১ হাজার ৩৯৫ টাকা। আয় কর দিয়েছেন ৪৯ হাজার ৩৪ টাকা।
হলফনামায় আরও বলা হয়েছে, মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক বার্ষিক আয় করেন শিক্ষকতা ও অন্যান্য খাত থেকে। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন মাস্টার্স/এমবিএ। তাঁর নামে মামলা হয়েছিল ৩৮টি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের আয় ও সম্পদ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে ঢাকা-১১ আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। নির্বাচনের অংশ হিসেবে জমা দেওয়া হলফনামায় তিনি তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, পেশা এবং আয়ের বিস্তারিত বিবরণ জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন। ২৭ বছর বয়সী এই তরুণ নেতার শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক সম্মান এবং তিনি বর্তমানে রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় বসবাস করছেন। পেশাগত জীবনে তিনি একজন পরামর্শক হিসেবে কর্মরত এবং এর আগে তিনি বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, পরামর্শক পেশা থেকেই তার বছরে ১৬ লাখ টাকা আয় হয়। তবে তার স্ত্রী ফাতিমাতুজ জোহরা একজন গৃহিণী হওয়ায় তার কোনো নিজস্ব আয়ের উৎস নেই।
নাহিদ ইসলামের দাখিলকৃত সম্পদের বিবরণী বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, তার নিজের নামে কোনো স্থাবর সম্পদ অর্থাৎ জমি বা বাড়ি নেই। তবে তার বেশ কিছু অস্থাবর সম্পদ রয়েছে যার মধ্যে নিজের কাছে নগদ ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর নামে ২ লাখ টাকা গচ্ছিত রয়েছে। এছাড়া সোনালী ব্যাংকের রমনা কর্পোরেট শাখায় তার ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৩৬৩ টাকা জমা রয়েছে। স্বর্ণালংকারের ক্ষেত্রে নাহিদ ইসলামের নিজের নামে ৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকার এবং তার স্ত্রীর নামে ১০ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণ রয়েছে। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য তার ১ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য এবং ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের আসবাবপত্র রয়েছে বলে তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। সব মিলিয়ে তার অর্জিত মোট সম্পত্তির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রীর সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য ১৫ লাখ টাকা।
আর্থিক স্বচ্ছতা ও কর প্রদানের তথ্যে জানানো হয়েছে যে, ২০২৫-২০২৬ কর বছরে নাহিদ ইসলাম ১ লাখ ১৩ হাজার ২৭৪ টাকা আয়কর প্রদান করেছেন। তার আয়কর রিটার্নে প্রদর্শিত মোট সম্পদের পরিমাণ ৩২ লাখ ১৬ হাজার ১২২ টাকা। ব্যক্তিগতভাবে তার কোনো ধরনের ঋণের বোঝা নেই, তবে তার স্ত্রীর নামে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের রামপুরা শাখায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার একটি ঋণ রয়েছে। আইনি ও রাজনৈতিক অবস্থানের বিষয়ে নাহিদ ইসলাম হলফনামায় ঘোষণা করেছেন যে, তার বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই এবং অতীতেও তিনি কোনো মামলায় অভিযুক্ত হননি। এটি তার জীবনের প্রথম সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ, এর আগে তিনি কখনো সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হননি।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের আয় ও সম্পদ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর নিজেকে পেশায় ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সেখানে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৮৯ লাখ ৮২ হাজার ৮৪১ টাকা। অন্যদিকে তার স্ত্রী মারিয়া আক্তারের মোট সম্পদ দেখানো হয়েছে ২ লাখ ৬৬ হাজার ৮১৮ টাকা, পেশা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে শিক্ষিকা।
হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন আদালতে নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে মোট ৬টি মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে কিছু মামলা তদন্তাধীন এবং কয়েকটিতে তিনি এজাহারভুক্ত ও অভিযুক্ত। তবে পূর্বে দায়ের করা ৮টি মামলায় তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।
হলফনামা অনুযায়ী, ব্যবসা থেকে নুরুল হক নুরের বার্ষিক আয় ১৫ লাখ ৮৫ হাজার ৪২৬ টাকা। অন্যান্য উৎস থেকে তার আয় দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৬২২ টাকা। সব মিলিয়ে তার মোট বার্ষিক আয় দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৪০ হাজার ৪৮ টাকা।
নগদ অর্থ হিসেবে নুরের কাছে রয়েছে ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ২১৭ টাকা এবং তার স্ত্রীর কাছে রয়েছে ৩০ হাজার ৯৪১ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নুরুল হক নুরের জমা রয়েছে ২ লাখ ৮৯ হাজার ৩১৩ টাকা, আর তার স্ত্রীর জমা ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৭৭ টাকা। কোম্পানির শেয়ারে নুরের বিনিয়োগ ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। আসবাবপত্রে স্ত্রীর নামে দেখানো হয়েছে ১ লাখ টাকা। উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত আমানতের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ৫৫ লাখ ৮০ হাজার ৩১১ টাকা। তবে স্বর্ণালংকার বা গহনার কোনো বিবরণ নেই।
ভূমি সম্পদের হিসাবে নুরুল হক নুরের নামে এক একরের কম কৃষিজমি রয়েছে। তার স্ত্রী মারিয়া আক্তারের নামে রয়েছে তিন একর কৃষিজমি, যার মূল্য ধরা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। দায় সংক্রান্ত অংশে বলা হয়েছে, নুরুল হক নুরের নামে পাওনাদারের কাছে দেনা রয়েছে ৩ লাখ ৮৮ হাজার ১৬০ টাকা। তবে তিনি বা তার পরিবারের কোনো সদস্য ব্যাংক কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করেননি।
হলফনামায় আরও উল্লেখ রয়েছে, নুর ও তার স্ত্রী দুজনই নিয়মিত আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন। আয়কর নথিতে নুরের মোট সম্পদ দেখানো হয়েছে ৯০ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪১ টাকা এবং বার্ষিক আয় ২০ লাখ ৪০ হাজার ৪৮ টাকা। তার স্ত্রীর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৮৮০ টাকা এবং মোট সম্পদ ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৮১৮ টাকা।
হাআমা/
