পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের সাবেক সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা সৈয়দ আবজুরুল হকের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে ৬৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মামলা করেছে দুদক। আসামি আবজুরুল হক বর্তমানে এলপিআরে আছেন। তার বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার খুলশী থানার উত্তর পাহাড়তলী গ্রামে। তার বাবার নাম সৈয়দ আব্দুল ওয়াহেদ।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুদকের সমন্বিত রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আমির হোসাইন বাদী হয়ে রাজশাহীর বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতে মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, রাজশাহী নগরীর সাগরপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও পশ্চিম রেলের কর্মচারী মো. ওয়ালী খান ২০২১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আদালতে ঘুস প্রদানের একটি অভিযোগ করেন। আদালত ২০২৩ সালের ৮ মে মামলাটি দুদকে অনুসন্ধানের জন্য পাঠায়। দুদক অনুসন্ধান শেষে সোমবার ৫ জানুয়ারি মামলাটি দায়ের করে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, আবজুরুল হক রেলওয়ের ‘খালাসী’ পদে নিয়োগপ্রত্যাশী ৮ জনকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে ওয়ালী খানের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় ৬৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। প্রথম দফায় এসএ পরিবহণের মাধ্যমে ৩০ লাখ টাকা ও দ্বিতীয় দফায় ৩৫ লাখ টাকা নগদ নিয়েছেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে দুদক দেখতে পায় ২০১৫ সালের ১১ মে রেলওয়ের ৮৬৫টি খালাসী পদের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। আসামি সৈয়দ আবজুরুল হক ওই পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রতারণা ও অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে অসাধু উপায়ে ৮ জন প্রার্থীর কাছ থেকে ওই পরিমাণ টাকা নিয়েছেন। তিনি তার নিজ নামে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে এসএ পরিবহণের কাজিরদেউড়ী ও কর্নেলহাট, চট্টগ্রাম শাখা থেকে ৩০ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। পরে আরও ৩৫ লাখ টাকা নগদে নেন। এই টাকা ওয়ালী খানের দুটি ফোন নাম্বার থেকে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাপ্ত রেকর্ডপত্র অনুযায়ী টাকা প্রেরণ এবং গ্রহণ সংক্রান্ত বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করেন দুদক। তারা টাকা গ্রহণকারী মোবাইল ফোনের মালিকানাও যাচাই করেছে দুদক। তারা নিশ্চিত হয়েছে যে, নির্ধারিত ফোনের সিমের মালিক আসামি সৈয়দ আবজুরুল হক। এছাড়া আসামি সৈয়দ আবজুরুল হকের মোবাইল ফোন নম্বর এবং টাকা দাতা মো. ওয়ালী খানের দুটি নাম্বারের মধ্যে অসংখ্যবার বিভিন্ন মেয়াদে যোগাযোগ বা কথোপকথন হয়েছে।
এছাড়া ২০১৯ সালের ৭ জুলাই নোটারিকৃত অঙ্গীকারনামা আসামি সৈয়দ আবজুরুল হক টাকা-গ্রহণ ও ফেরত প্রদানের অঙ্গীকারনামা প্রদান করেন। পরে ২০২১ সালের ২৪ মার্চ স্বেচ্ছায় একই স্বীকারোক্তি প্রদান করেন। ২০২২ সালের ২৯ মার্চ আবারও নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ঘোষণাপত্র ও অঙ্গীকার করেন।
সহকারী পরিচালক মো. আমির হোসাইন জানান, “এতে আসামির বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অসদাচরণ করার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ফলে দুদক মামলা দায়ের করেছেন।”
এমএআর/
