শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পঞ্চগড়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও প্রশাসনে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে রোববার (১২ জানুয়ারি) রাতে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে যান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ও এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সারজিস আলম বলেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করে শেষ করেছিল। এরপর কেন এবং কার নির্দেশে সেনাবাহিনীর লাঠিচার্জ করা হলো, তা জাতির সামনে স্পষ্ট করতে হবে। একটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন আচরণ প্রশ্নবিদ্ধ এবং এর দায় এড়ানো সম্ভব নয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই ফের রাজপথে নামেন শিক্ষার্থীরা। তাদের আহ্বানে জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। মিছিল শেষে রাত ১০টার পর আন্দোলনকারীরা জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন এবং বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই সময় সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।
আন্দোলনকারীদের দাবির প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জেলা প্রশাসক, সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন।
বৈঠক শেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের জানানো হয়, ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সময় চেয়ে প্রশাসনের আশ্বাসের পর রাত আনুমানিক ১২টার দিকে আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান সিদ্ধান্ত না এলে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।
জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান, সারজিস আলম, কেন্দ্রীয় বিএনপির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেন আজাদ, জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির ইকবাল হোসাইন এবং সেনাবাহিনীর ২৯ বীরের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াসাত রহমান ফারুকী।
সমাবেশে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রশাসন শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের পক্ষে রয়েছে এবং আন্দোলনকারীদের দাবির বিষয়ে আন্তরিক। লাঠিচার্জের অভিযোগ যেহেতু উঠেছে, তাই আলোচনার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও জানানো হয়, পঞ্চগড়ের ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, রোববার বিকেলে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারসহ চার দফা দাবিতে পঞ্চগড়ের শেরেবাংলা পার্ক সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে বাংলাদেশপন্থী শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করা হয়। কর্মসূচির শেষ দিকে ট্রাফিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামলে সেনাবাহিনীর লাঠিচার্জে অন্তত ২৩ জন শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
টিএইচএ/
