ভোট গ্রহণের মতো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব থেকে কওমী মাদ্রাসার শিক্ষক ও কর্মচারীদের পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফি।
সোমবার নিজের এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ভোট গ্রহণের দায়িত্বে স্কুল–কলেজের শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন এনজিও কর্মী যুক্ত থাকলেও কওমী ধারার শিক্ষক ও স্টাফদের ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ রাখা হচ্ছে। এটি কোনো প্রশাসনিক ভুল নয়, বরং এটি একটি পরিকল্পিত বৈষম্য এবং ধর্মীয় পরিচয়ভিত্তিক বঞ্চনা।”
তিনি বলেন, এই বাদ দেওয়ার প্রবণতা সংবিধান পরিপন্থী। কারণ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭ অনুযায়ী আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিক সমান, অনুচ্ছেদ ২৮(১) অনুযায়ী ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা যাবে না এবং অনুচ্ছেদ ৩৬ ও ৩৮ নাগরিক অধিকার ও অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা দেয়।
মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফি প্রশ্ন তোলেন, “কওমী শিক্ষকরা কি বাংলাদেশের নাগরিক নন? আইনেও কোথাও লেখা নেই যে কওমী মাদ্রাসার শিক্ষকরা ভোটের দায়িত্ব পালনে অযোগ্য।”
তার ভাষ্য অনুযায়ী, কওমী মাদ্রাসার শিক্ষক ও কর্মচারীরা—
- প্রাপ্তবয়স্ক,
- শিক্ষিত,
- আইন মান্যকারী নাগরিক এবং
- সমাজে নৈতিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনকারী।
তারপরও শুধুমাত্র পরিচয়ের কারণে তাদের বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ধরনের বৈষম্য রাষ্ট্রের নিরপেক্ষতা নষ্ট করে, ধর্মীয় বিভাজন বাড়ায় এবং একটি বড় শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে—যা রাষ্ট্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দাবি
বিবৃতিতে তিনি দুই দফা দাবি জানান—
১) কওমী শিক্ষকদের ভোটের দায়িত্ব থেকে বাদ দেওয়ার এই অঘোষিত নীতি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
২) যোগ্যতার ভিত্তিতে সকল নাগরিককে ভোট গ্রহণের কাজে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, “সমান অধিকার রাষ্ট্রের দয়া নয়—এটা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা এবং নাগরিকদের প্রাপ্য অধিকার।”
হাআমা/
