হাসান আল মাহমুদ >>
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা সংক্রান্ত পূর্বঘোষিত সংবাদ সম্মেলন শেষ মুহূর্তে স্থগিত হওয়ায় ইসলামপন্থী রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্থগিতের কারণ নিয়ে জোটের শরিক দলগুলোর বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে, যা জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুর সোয়া ২টার দিকে ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় সংবাদ সম্মেলন স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এতে বলা হয়, ‘অনিবার্য কারণবশত নির্ধারিত সময়ে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। নতুন সময়সূচি পরবর্তীতে জানানো হবে।’
এর আগে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মুক্তিযোদ্ধা হলে বিকেল সাড়ে ৪টায় সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এতে ইসলামপন্থী দলগুলোর নির্বাচনী বোঝাপড়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল।
স্থগিতের পেছনে ‘জটিলতা’র কথা বলছে শরিক দল
সংবাদ সম্মেলন স্থগিতের কারণ জানতে চাইলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় এক সিনিয়র নেতা একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, মূলত জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে সৃষ্ট জটিলতার কারণেই সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। তার দাবি, ইসলামী আন্দোলন এতে অংশ নিতে আগ্রহ দেখায়নি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জামায়াতকে বলেছি, শরিক সবার সঙ্গে আলোচনা করে জটিলতা নিরসনের মাধ্যমে যেন সংবাদ সম্মেলন করা হয়। আশা করি এই জটিলতা দূর হবে।’
একই সঙ্গে কিছু সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে, সংবাদ সম্মেলন স্থগিতের অনুরোধ জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ রেজাউল করিম (পীর সাহেব চরমোনাই), এবং তিনি জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছেন।
‘আমীর অনুরোধ করেননি’ — ইসলামী আন্দোলনের ব্যাখ্যা
তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এ দাবি নাকচ করেছে। দলের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করার জন্য কাউকে কোনো অনুরোধ করেননি।
তিনি বলেন, ‘“ইসলামী আন্দোলনের আমিরের অনুরোধে ১১ দলের সংবাদ সম্মেলন স্থগিত”— এ ধরনের সংবাদ ভিত্তিহীন ও অসত্য।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইসলামপন্থীদের ‘একবক্স নীতি’তে অটল থেকে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সমঝোতার আলোচনায় অংশ নিচ্ছে এবং সেই আলোচনা চলমান রয়েছে।
দুই অবস্থান, এক জোট
একদিকে শরিক দলের বক্তব্যে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে জটিলতার কথা উঠে এলেও, অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন তা প্রত্যাখ্যান করছে। ফলে সংবাদ সম্মেলন স্থগিতের প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।
১১ দলীয় জোটে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছাড়াও রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি), এবি পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আসন সমঝোতা নিয়ে ভেতরের দরকষাকষি এখনো শেষ হয়নি। তাই প্রকাশ্য ঘোষণা পিছিয়ে গেলেও আলোচনার দরজা বন্ধ হয়নি। বরং সংবাদ সম্মেলন স্থগিত হওয়ার মধ্য দিয়ে জোটের ভেতরের মতপার্থক্য আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।
হাআমা/
