মধ্যপ্রাচ্যে রণদামামা বাজিয়ে পারস্য উপসাগরের দিকে বিশাল নৌবহর বা ‘আর্মাডা’ পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, একটি বিমানবাহী রণতরি স্ট্রাইক গ্রুপসহ বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ওই অঞ্চলে পৌঁছাবে। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলন শেষে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন যে, ওয়াশিংটন তেহরানের গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে। কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা হিসেবেই এই বিশালাকার নৌবহর মোতায়েন করা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো যখন দক্ষিণ চীন সাগরে মহড়ায় ব্যস্ত থাকা ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ বিমানবাহী রণতরিকে মাঝপথে মিশন পরিবর্তন করে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাত্রার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের সুর কিছুটা নরম করেছিলেন, তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যে তিনি আবারও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিলেন। তিনি দাবি করেন, গত সপ্তাহে তার কঠোর হুমকির কারণেই তেহরান ৮০০ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা থেকে বিরত থেকেছে। তবে ইরান সরকার বিক্ষোভকারীদের প্রাণদণ্ডের পরিকল্পনার বিষয়টি শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, গত ডিসেম্বরের বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়েও চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক শক্তিধর হতে দেওয়া হবে না। যদি তেহরান আবারও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা এ সংক্রান্ত কার্যক্রমে ফিরে যায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সরাসরি আঘাত হানবে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সাথে ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছিল। ট্রাম্প মনে করেন, সামরিক শক্তি মোতায়েন রাখা আলোচনার টেবিলকে শক্তিশালী করবে, তবে তেহরান ভুল করলে যুক্তরাষ্ট্র তা ব্যবহারে দ্বিধা করবে না।
টিএইচএ/
