ফ্লোডিয়ার জলোচ্ছ্বাস এখানে হলে ফরিদপুর পর্যন্ত ভেসে যেতো: আইনুন নিশাত

by Fatih Work

“উপকূল মারাত্মক বিপদে রয়েছে। এ নিয়ে রাষ্ট্রীযভাবে তেমন কাজ হচ্ছে না। সমুদ্রসীমার কর্তৃত্ব অর্জন করতে পারেনি। ২০২৩ সালে বৈশ্বিক চুক্তি হলেও আমাদের কোনো কাজ হয়নি। অথচ আগামী ৫০ বছর পর খুলনাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি সমুদ্রের পানির মতো লবণাক্ত হয়ে যাবে।”

আজ রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে খুলনা নগরীর সিএস আভা সেন্টারে তৃতীয় উপকূলীয় সম্মেলনে উপস্থাপন করা মূল প্রবন্ধে এসব কথা বলেন পরিবেশ, জলবায়ূ ও পানি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ড. আইনুন নিশাত।

বিজ্ঞাপন
banner

দেশের ৬০টিরও বেশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। তিনব্যাপী এ সম্মেলন শনিবার অংশীজন কর্মশালায় প্রথম দিন অতিবাহিত হয়।

ড. আইননু নিশাত আরো বলেন, “দেশের স্বার্থেই প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সর্ম্পক স্থাপন দরকার। বিশেষ করে ভারত ও নেপালের পানি প্রকল্পের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ত হয়ে নিজেদের হিস্যা আদায় করতে হবে। অথচ এত বছরেও আমাদের পানি সংজ্ঞা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।”

নদীর গুরুত্ব তুলে ধরে পরিবেশ ও পানি বিশেষজ্ঞ বলেন, “আমরা নদীকে নষ্ট করে ফেলেছি। নদী শুধু পানি বহন করে না। নদী সেগিমেন্ট বহন করে, পলি বলবেন না। সেগিমেন্ট সেখানে পাথর, বালু, কাদা ও ভাসমান বস্তু থাকে। বর্তমান অবস্থা অব্যাহত থাকলেও দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় এলাকার লবণাক্ততা বেড়ে সমুদ্রের রূপ নেবে। এখানে সেখানকার মতো হাঙর, মাছ থাকবে। সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে।”

আইনুন নিশাত আরো বলেন, “মৎস্য ও কৃষি উৎপাদন অর্ধেকে নামবে। বাঁধ দিয়ে আমরা বন্যা নিয়ন্ত্রণ করেছি। কিন্তু বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণ করিনি। পরিকল্পনা গ্রহণকালে ভুক্তভোগী জনগোষ্ঠীর মতামত নেওয়া হয় না। ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য উপকূল ও বাংলাদেশকে বাঁচাতে পানি নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।” তিনি বলেন, “গত বছর ছয়টি সাইক্লোন হয়েছে, সবগুলোই মায়ানমার-ভারত উপকূল দিয়ে গিয়েছে। আমরা বেঁচে গেছি। ফ্লোডিয়ায় ১৭ ফুট জলোচ্ছ্বাস হয়েছে, এখানে হলে আমাদের ফরিদপুর পর্যন্ত ভেসে যেতো।”

ওয়াটার এইডের দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক ড. মো. খাইরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও উপকূলীয় পানি সম্মেলন কমিটির সদস্যসচিব শামীম আরফিনের সঞ্চালনায় সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মারুফুল ইসলাম, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের আবুল কালাম আজাদ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশেনের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক সোমা দত্ত, ড. জুবায়ের আহমেদ, জেজেএসের এ টি এম জাকির হোসেন, লোকজের দেবপ্রসাদ সরকার প্রমুখ। সম্মেলনে একাধিক বিদেশি প্রতিনিধি ভাচুর্য়াললি তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

সম্মেলনের দুটি সেশনে ২০টি সাইড ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। আগামীকাল সোমবার এইক স্থানে দুটি সেশনে সাইড ইভেন্ট ও ‘খুলনা ঘোষণা’র মধ্য দিয়ে সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠিত হবে।

এমএআর/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222