কুখ্যাত মার্কিন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন-সংক্রান্ত প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নতুন নথিপত্র প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। এই বিশাল তথ্যভাণ্ডার প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্ব রাজনীতি ও করপোরেট মহলে তীব্র কম্পন শুরু হয়েছে। ফাঁস হওয়া গোপন বার্তাগুলোতে উঠে এসেছে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম, যা নতুন করে বিতর্ক ও আইনি জটিলতার জন্ম দিয়েছে। এই কেলেঙ্কারির প্রাথমিক প্রভাবে ইতিমধ্যে স্লোভাকিয়ার নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।
প্রকাশিত নথিতে দাবি করা হয়েছে, মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস রুশ নারীদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন এবং ড্রাগ সংগ্রহের জন্য এপস্টেইনের সহায়তা চেয়েছিলেন। গেটস ফাউন্ডেশন অবশ্য এই দাবিগুলোকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। অন্যদিকে, টেসলা প্রধান ইলন মাস্কের নামও জড়িয়েছে এই বিতর্কে। ২০১২-১৩ সালের দিকে এপস্টেইনের কুখ্যাত দ্বীপে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান নিয়ে মাস্কের কৌতূহলী ইমেইল পাওয়া গেছে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। মাস্ক একে তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন। এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিকের নামও উঠে এসেছে এই তালিকায়।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে। এপস্টেইনের একটি বার্তায় দাবি করা হয়েছে, ২০১৮ সালের ওই হত্যাকাণ্ডে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদ (এমবিজেড) সম্ভবত সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে ফাঁসাতে ভূমিকা রেখেছিলেন। নথিতে আরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, এপস্টেইন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাথে যুক্ত ছিলেন এবং ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের অধীনে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।
এদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ২০১৭ সালের ইসরায়েল সফর এবং রিপাবলিকান কৌশলী স্টিভ ব্যাননের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে এপস্টেইনের মধ্যস্থতার দাবি তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত সরকার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে একজন দণ্ডিত অপরাধীর ‘বাজে চিন্তা’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তবে ভারতের বিরোধী দলগুলো এই বিষয়ে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেছে। নথিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর নামও এসেছে। অন্যদিকে, ব্রিটিশ রাজপরিবারের অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় এক নারী যৌন হেনস্তার নতুন অভিযোগ এনেছেন, যা রাজপরিবারকে আবারও অস্বস্তিতে ফেলেছে। স্লোভাকিয়ার নিরাপত্তা উপদেষ্টা মিরোস্লাভ লাজকাক এপস্টেইনের সাথে বিতর্কিত বার্তা আদান-প্রদানের জেরে পদত্যাগ করায় এই সংকটের আন্তর্জাতিক মাত্রা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
টিএইচএ/
