২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহারে ধর্মীয় শিক্ষাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়ার কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কওমি সনদ স্বীকৃতির পূর্ণ বাস্তবায়ন ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণে বাধা দূরীকরণের অঙ্গীকার করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই ইশতেহার ঘোষণা করেন।
ইশতেহারে জানানো হয়েছে, ধর্মীয় শিক্ষাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারিভাবে তথ্য প্রযুক্তি শিক্ষা এবং ফ্রিল্যান্সিং সংক্রান্ত কোর্সসমূহ শিক্ষার পর্যাপ্ত সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। পাশাপাশি, দেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটসমূহে কারিগরি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার ক্ষেত্রে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের বাধাহীন প্রবেশ নিশ্চিতে নানাবিধ প্রণোদনা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে। মাদরাসার কারিকুলামে পেশাভিত্তিক ও বৃত্তিমূলক বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই সংস্কারের আওতায় ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, আইটি এবং ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা থাকবে, যাতে মাদরাসা শিক্ষার্থীরা উৎপাদনশীল কাজ, দেশে-বিদেশে চাকরি, অন্যান্য পেশা ও উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে পিছিয়ে না পড়ে।
বিএনপি সর্বশেষ রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকাকালীন কওমি মাদরাসার ‘দাওরায়ে হাদিস’ সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রীর সমমান ঘোষণা করে।
বিএনপির ইশতেহারে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, এছাড়া কওমি সনদ স্বীকৃতির পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হবে। কওমি সনদধারীদের বিদেশে ধর্মীয় উচ্চশিক্ষালাভে প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করা হবে। যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে নিয়োগ, বিশেষত সরকারি মসজিদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, সেনা বাহিনী, নৌ বাহিনী, বিমান বাহিনীর ধর্মীয় শিক্ষক কাম ইমাম, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে সার্টিফিকেটধারীদের নিয়োগে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
ইশতেহারে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যেসব হাফেজে কুরআন, কারী এবং আলেম কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখবেন, তাদের রাষ্ট্রীয় সম্মান ও স্বীকৃতির কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এবং নতুনকুঁড়ি কোরআন তেলাওয়াত প্রবর্তন করা হবে।
এআইএল/
