আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও প্রভাবমুক্ত রাখার লক্ষ্যে টানা ৮২ ঘণ্টার জন্য যেকোনো ব্যক্তিকে তার নিজস্ব নির্বাচনী এলাকার বাইরে অবস্থান না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এই বিধিনিষেধ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে আগামী শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
তবে ইসির এই নির্দেশনায় বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা ও প্রধান শহরগুলোতে বসবাসরত ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক বিভ্রান্তি ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। দেশের বর্তমান কর্মসংস্থান ও শিক্ষা ব্যবস্থার বাস্তবতায় বিপুল সংখ্যক মানুষ স্থায়ী ঠিকানার বাইরে অবস্থান করেন। অনেকেরই ভোটার এলাকা নিজ গ্রাম বা মফস্বলে হলেও তারা জীবিকার তাগিদে বড় শহরে থাকেন। ৮২ ঘণ্টার এই ‘বহিরাগত’ নিষেধাজ্ঞার ফলে তারা কীভাবে নিজ এলাকায় গিয়ে ভোট দেবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উল্লেখ্য যে, দেশের বর্তমান নির্বাচনী আইনে অনলাইনে বা নিজ এলাকার বাইরে থেকে ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
এই বিভ্রান্তির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ অভয় দিয়ে জানিয়েছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য, তবে কোনো বৈধ ভোটারকে বাধা দেওয়া হবে না। তিনি স্পষ্ট করেন, “ভোট দেওয়া নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। কেউ যদি তার ভোটার এলাকায় ভোট দিতে যেতে চান, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে পূর্ণ সহযোগিতা করবে। সেক্ষেত্রে ভোটারকে তার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা ভোটার তালিকায় নামের প্রমাণ সাথে রাখতে হবে।” তিনি আরও জানান, অযথা ঘোরাফেরা বা নির্বাচনী এলাকায় প্রভাব বিস্তার ঠেকাতেই এই ৮২ ঘণ্টার কঠোর অবস্থান।
যানবাহন চলাচলের বিষয়ে কমিশন জানিয়েছে, ভোটের দিন ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলেও রিকশা চলাচলে কোনো বাধা থাকবে না। ফলে ভোটাররা সহজেই ভোটকেন্দ্রে যাতায়াত করতে পারবেন। এছাড়া নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং কমিশনের বিশেষ অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবেন। মাঠপর্যায়ে বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং ভোটারদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
টিএইচএ/
