বিতর্কিত ডুরান্ড লাইন সীমান্তজুড়ে আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান এবং পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘর্ষের আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) পঞ্চম দিনে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন কার্যত এক ‘উন্মুক্ত যুদ্ধে’ রূপ নিয়েছে। দুই পক্ষই একে অপরের ভূখণ্ডে বিমান হামলা, ড্রোন আক্রমণ এবং ভারী গোলাবর্ষণের দাবি করেছে।
সবশেষ খবর অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালেও কাবুলের আকাশে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি এবং সীমান্ত এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি গুলিবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। এই সংঘাতের ফলে সীমান্ত অঞ্চলের শত শত বেসামরিক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২১ ফেব্রুয়ারি, যখন পাকিস্তান আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর গোপন আস্তানায় বিমান হামলা চালায়। এর প্রতিবাদে ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় তালেবান বাহিনী আফগানিস্তানের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তানি পোস্টগুলোতে বড় ধরনের পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে ২৫ ফেব্রুয়ারি ভোরে, যখন পাকিস্তান ‘গজব লিল হক’ নামক সামরিক অভিযান শুরু করে। ওই দিন পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন কাবুলের দারুল আমান, পুল-ই-চরখি এবং তালেবান প্রধান হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার বাসভবন কান্দাহারে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ এই অভিযানকে তালেবানের বিরুদ্ধে ‘উন্মুক্ত যুদ্ধ’ হিসেবে ঘোষণা করে অভিযোগ করেন যে, তালেবান ভারতের ‘প্রক্সি’ হিসেবে কাজ করছে।
অন্যদিকে, তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ নিশ্চিত করেছেন যে, কাবুল, কান্দাহার এবং পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তান বোমা হামলা চালিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় তালেবান যোদ্ধারা খোস্ত, নানগারহার এবং কুনার প্রদেশের বিভিন্ন সীমান্ত চৌকি দখলের দাবি করেছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া তীব্র লড়াইয়ে উভয় পক্ষই একে অপরের ব্যাপক প্রাণহানি ও সামরিক স্থাপনা ধ্বংসের দাবি করলেও স্বতন্ত্র কোনো সূত্র থেকে নিহতের সঠিক সংখ্যা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
টিএইচএ/
