ইরানের স্কুলে হামলাটি যুক্তরাষ্ট্রই চালিয়েছে: নিউইয়র্ক টাইমস

by Abid

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংঘাতের আবহে দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে ভয়াবহ বিমান হামলায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাটির সাথে মিশে গেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত এই হামলায় অন্তত ১৭৫ জন নিহত হয়েছে, যাদের বড় একটি অংশই কোমলমতি শিশু। এটি এই চলতি যুদ্ধের এ পর্যন্ত বেসামরিক নাগরিক হতাহতের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ঘটনার কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের সংগৃহীত স্যাটেলাইট চিত্র, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, ওইদিন হরমুজ প্রণালীর কাছে অবস্থিত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পরিচালিত একটি নৌঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। মার্কিন বাহিনীর নির্ভুল লক্ষ্যভেদী (প্রিসিশন স্ট্রাইক) একটি বোমা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে পাশের স্কুল ভবনটিতে আঘাত হানে। গত বুধবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের জানামতে তারা স্কুলে হামলা চালায়নি, তবে ওয়ার ডিপার্টমেন্ট বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। একই দিনে প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনও তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন
banner

এদিকে ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র নাদাভ শোশানি দাবি করেছেন, ওই সময়ে ওই এলাকায় ইসরায়েলি কোনো সামরিক অভিযান সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তবে মার্কিন জেনারেল ড্যান কেইনের উপস্থাপিত মানচিত্রে দেখা গেছে, দক্ষিণ ইরানে অপারেশনের প্রথম ১০০ ঘণ্টায় মিনাব এলাকাটি মার্কিন বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ছিল। পেন্টাগনের সাবেক বেসামরিক ক্ষতি বিষয়ক উপদেষ্টা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ওয়েস জে. ব্রায়ান্ট স্যাটেলাইট চিত্র পর্যালোচনা করে জানিয়েছেন, স্কুলসহ প্রতিটি ভবনে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত করা হয়েছে। তিনি ধারণা করছেন, ভুল তথ্যের কারণে স্কুলটিকে সামরিক লক্ষ্যবস্তু ভেবে এই হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী এই স্কুল ভবনটি একসময় আইআরজিসি নৌঘাঁটির অংশ ছিল। কিন্তু ২০১৬ সালের চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ভবনটি পৃথক করে দেওয়া হয়েছে এবং এটি দীর্ঘকাল ধরে বেসামরিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার কর্মদিবস হওয়ায় হামলার সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষেই অবস্থান করছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়াদের উদ্ধারে স্থানীয় মানুষ মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছে। মার্কিন বোমা ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত হলে আন্তর্জাতিক মহলে পেন্টাগনের গোয়েন্দা তথ্যের নির্ভুলতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন ওঠার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222