ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চল লক্ষ্য করে দফায় দফায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় রাজধানী জেরুজালেম, মধ্য-ইসরায়েল, শফেলা এবং লোহিত সাগর সংলগ্ন এলাকাগুলোতে একযোগে সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বাজানো হয়। আইডিএফ (ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস) জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ শনাক্ত করার পর উত্তর ইসরায়েলেও উচ্চ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছিল।
আইডিএফের ভাষ্যমতে, উত্তর ইসরায়েলের দিকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র জনশূন্য উন্মুক্ত স্থানে আঘাত হেনেছে। সামরিক প্রটোকল অনুযায়ী কোনো জনবসতি না থাকায় সেটিকে আকাশেই ধ্বংস না করে আঘাত হানতে দেওয়া হয়েছে। ইরানের এই ব্যাপক হামলার সমান্তরালে লেবানন থেকেও উত্তর ইসরায়েলে বেশ কিছু রকেট ছোড়া হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি রকেট ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে এবং বাকিগুলো খোলা জায়গায় পড়েছে বলে দাবি করেছে আইডিএফ। হামলার পরপরই উত্তর-ইসরায়েলে নতুন করে আগাম সতর্কবার্তা জারি করা হয় কারণ ইরান থেকে আরও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের তথ্য শনাক্ত হয়েছে।
ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো জেরুজালেম ও মধ্য-ইসরায়েলের আকাশে সাইরেন বাজানোর কিছুক্ষণ পরেই এসব ঘটনা ঘটে। যদিও হামলার তীব্রতা ছিল অনেক বেশি, তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোথাও সরাসরি বড় ধরনের আঘাত কিংবা জনবল ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যের এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পুরো অঞ্চল এখন চরম উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। সামরিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ইরানের এই দফায় দফায় হামলা যুদ্ধকে আরও দীর্ঘস্থায়ী ও বিধ্বংসী করে তুলতে পারে।
টিএইচএ/
