সৌদি আরবের পবিত্র মদিনা নগরীর সন্নিকটে ২৪ জন ইন্দোনেশীয় ওমরাহ হজযাত্রীবাহী একটি বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মক্কা থেকে মদিনায় যাওয়ার পথে হাইওয়েতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে চালকের বিচক্ষণতা ও দ্রুত পদক্ষেপে বাসে থাকা ২৪ জন যাত্রীর সবাই অক্ষত অবস্থায় নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে সক্ষম হয়েছেন। জেদ্দায় নিযুক্ত ইন্দোনেশীয় কনসাল জেনারেল ইউসরন আম্বারি নিশ্চিত করেছেন যে, এই দুর্ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা শারীরিক আঘাতের ঘটনা ঘটেনি।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ওমরাহ যাত্রীদের নিয়ে বাসটি মদিনা শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে সর্বশেষ চেকপোস্ট অতিক্রম করার পরপরই বিপত্তি ঘটে। চলন্ত অবস্থায় বাসের একটি টায়ার ফেটে যায় এবং সামনের অংশ থেকে ধোঁয়া বের হতে শুরু করে। বিষয়টি চালকের নজরে আসতেই দ্রুত বাসটি রাস্তার পাশে থামিয়ে দেন এবং যাত্রীদের দ্রুত নেমে যাওয়ার নির্দেশ দেন। যাত্রীরা বাস থেকে নেমে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো যানবাহনে আগুন ধরে যায়। বাসে থাকা ২৪ জন যাত্রীর বেশিরভাগই ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম সুমাত্রার বাসিন্দা ছিলেন। বাসের চালক ছিলেন একজন মিশরীয় নাগরিক।
কনসাল জেনারেল ইউসরন আম্বারি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডে যাত্রীরা শারীরিকভাবে নিরাপদ থাকলেও বাসের ভেতরে থাকা তাদের সমস্ত লাগেজ এবং ব্যক্তিগত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তবে সৌভাগ্যবশত সকল যাত্রীর পাসপোর্ট অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, চালকের কোনো গাফিলতি নয় বরং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। জেদ্দায় অবস্থিত ইন্দোনেশীয় কনস্যুলেট জেনারেল (কেজেআরআই) বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরিবহন অপারেটরের কাছ থেকে সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়ে কাজ করছে।
বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত ২৪ জন ওমরাহ যাত্রী মদিনার একটি হোটেলে অবস্থান করছেন এবং তারা সবাই সুস্থ আছেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বাসে থাকা শিশুদের মধ্যে এই ঘটনার ফলে সাময়িক মানসিক আতঙ্ক (ট্রমা) দেখা দিয়েছে। কনস্যুলেটের একটি সুরক্ষা টাস্কফোর্স ইতোমধ্যে মদিনায় গিয়ে ভুক্তভোগী ও গ্রুপ লিডারের সাথে সাক্ষাৎ করেছে। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৩১ মার্চ মদিনা থেকে গারুদা ইন্দোনেশিয়ার একটি ফ্লাইটে তাদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
তথ্যসূত্র: দ্যা ইসলামিক ইনফর্মেশন
টিএইচএ/
