ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোকেমিক্যাল কারখানাগুলোতে মার্কিন ও ইসরাইলি যৌথ বাহিনীর চালানো বিমান হামলায় হতাহতের সংখ্যা আরও বেড়েছে। সবশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত এবং ১৭০ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
গত শনিবার (৪ এপ্রিল) মাহশাহর স্পেশাল ইকোনমিক জোনের অন্তত ছয়টি কারখানায় এই ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, মাহশাহর ও বন্দর ইমাম স্পেশাল পেট্রোকেমিক্যাল জোনকে লক্ষ্য করে এই সুপরিকল্পিত আক্রমণ চালানো হয়েছে।
প্রাদেশিক নিরাপত্তা বিষয়ক উপ-গভর্নরের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি আরও জানায়, হামলায় ফজর, রেজাল এবং আমির-কবির পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনাগুলো প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল। এতে বন্দর ইমাম পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনার কিছু অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে আমির-কবির স্থাপনায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
আজ রোববার (৫ এপ্রিল) ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের এক স্থানীয় কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরএনএ জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত ১৭০ জনের মধ্যে অধিকাংশকেই প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের ওপর সামরিক আগ্রাসন শুরু করে, যা বর্তমানে আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত এই ধারাবাহিক হামলায় দেশটিতে ২ হাজার ৭৬ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও রয়েছেন। এছাড়া হামলায় আহত হয়েছেন আরও ২৬ হাজার ৫০০ জন নাগরিক। এই সামরিক আগ্রাসনের ফলে ইরানের শিল্প ও জ্বালানি খাতে অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, এই হামলার জবাবে তেহরানও তাদের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। ইরান ইতিমধ্যে ইসরাইলের পাশাপাশি জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইরানের পাল্টা হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৪ জন ইসরাইলি নিহত এবং ৬ হাজার ৫৯৪ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, সাম্প্রতিক এক অভিযানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সি-১৩০ পরিবহন বিমান ও দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।
টিএইচএ/
