ভোটের মুখে চরমে হুমায়ুন কবীর বনাম অমিত শাহের বাগযুদ্ধ। বাংলায় ‘বাবরি মসজিদ’ গড়া নিয়ে শাহের চ্যালেঞ্জের পাল্টায় বিস্ফোরক ভরতপুরের বিদায়ী বিধায়ক। হাজার কোটির ডিল বিতর্ক থেকে শুরু করে ইডি-সিবিআইয়ের নজরদারি—রাজ্য রাজনীতিতে এখন সব থেকে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এই সংঘাত।
“যদি বাপের ব্যাটা হয় অমিত শাহ ২৪ ঘন্টার মধ্যে আমার বাবরি মসজিদ ভেঙে দেখাক”। ভোটের মুখে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি ভরতপুরের বিদায়ী বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের। পাশাপাশি সরাসরি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হুঙ্কার ছুঁড়ে তিনি বলেন, “ক্ষমতা থাকলে আমাকে অ্যারেস্ট করে দেখাক”। হাজার কোটির ডিল নিয়ে মমতা-অভিষেকের নিশানার পালটা জবাবে এদিন জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান বলেন,” আমার বিরুদ্ধে বলা হচ্ছে আমি নাকি ৪০০ কোটি টাকা নিয়েছি। কমিশনের নাকা তল্লাশিতে ২ লক্ষ টাকা নিয়ে গেলে কেন্দ্রীয় বাহিনী তাকে ধরে ফেলছে। আর আমি যদি ৪০০ কোটি টাকা নিয়ে থাকি সেই টাকা আমি বাড়ির মাটির তলায় নাকি কোথায় লুকিয়ে রেখেছি, খুঁজে বের করুক দম থাকলে। আইবি কি ফেল করে গেল? কমিশনের তো অনেক পাওয়ার। আমার বিরুদ্ধে কেন।
নির্বাচনের প্রাক্কালে বিতর্কিত প্রাক্তন তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীরের একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে যে তোলপাড় শুরু হয়েছে, তা সরাসরি খারিজ করে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ওই ভিডিওতে হুমায়ুন কবীরকে তৃণমূল সরকার ফেলার জন্য বিজেপির সঙ্গে ১০০০ কোটি টাকার চুক্তির কথা বলতে শোনা গিয়েছিল বলে দাবি শাসকদলের। এদিন বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশের পর এক সাংবাদিক সম্মেলনে শাহ বলেন, “হুমায়ুন কবীর এবং বিজেপি হলো উত্তর মেরু আর দক্ষিণ মেরুর মতো, যারা কখনও এক হতে পারে না। এই ধরনের ২ হাজার ভিডিও বানানোর ক্ষমতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রয়েছে।” শাহ আরও যোগ করেন, যারা বাংলায় ‘বাবরি মসজিদ’ গড়ার কথা বলে, তাদের সঙ্গে সরকার গড়ার চেয়ে ২০ বছর বিরোধী আসনে বসাকে শ্রেয় মনে করে বিজেপি।
অন্যদিকে, এই ভিডিওকে সম্পূর্ণ ‘জাল’ এবং ‘এআই জেনারেটেড’ বলে দাবি করেছেন ভরতপুরের বিদায়ী বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। তৃণমূলের প্রচার করা ১৯ মিনিটের ওই ভিডিওর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “দম থাকলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে অ্যারেস্ট করে দেখান। বলা হচ্ছে আমি ৪০০ কোটি টাকা অগ্রিম নিয়েছি। নির্বাচন কমিশনের নাকা তল্লাশিতে ২ লক্ষ টাকা নিয়ে গেলে ধরা পড়ে যায়, আর আমি ৪০০ কোটি টাকা কোথায় লুকিয়ে রাখলাম? আইবি কি ফেল করল?” হুমায়ুন আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও ফিরহাদ হাকিম যদি এই ডিলের প্রমাণ দিতে না পারেন, তবে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হবেন।
হুমায়ুন কবীর এদিন অত্যন্ত আগ্রাসী মেজাজে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও পাল্টা আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “যদি বাপের ব্যাটা হয় অমিত শাহ, তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমার বাবরি মসজিদ ভেঙে দেখাক।” উল্লেখ্য রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আবহে এক জনসভা থেকে সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি ও ধর্মীয় রাজনীতির ইস্যুতে গতকাল সওয়াল হন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মঙ্গলবার তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, আসন্ন নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় আসার পর কোনোভাবেই রাজ্যে ‘বাবরি মসজিদের প্রতিরূপ’ নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। নবগঠিত আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান তথা বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীরের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই শাহের এই কড়া প্রতিক্রিয়া।
হুমায়ুন কবীরকে সরাসরি আক্রমণ করে অমিত শাহ বলেন, “মমতাদিদি এবং হুমায়ুন কবীর কান খুলে শুনে রাখুন, এটি ভারত। এখানে কারো ক্ষমতা নেই যে আবার বাবরি মসজিদ গড়ে তুলবে।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এদিন হুমায়ুন কবীরকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘এজেন্ট’ হিসেবে অভিহিত করে দাবি করেন, বিজেপি ও তৃণমূল বিরোধী ভোট ভাগ করতেই এই নতুন দল গঠন করা হয়েছে। তার মতে, হুমায়ুন কবীরের মতো নেতারা আসলে পর্দার আড়াল থেকে শাসকদলকেই সুবিধা করে দিতে চাইছেন। শাহ আরও বলেন যে, বাংলায় তুষ্টিকরণের রাজনীতি বন্ধ করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। হুমায়ুন কবীরের নাম করে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “কোনো যোগ্য মানুষ এই পবিত্র মাটিতে বাবরি মসজিদ গড়ার কথা ভাবতে পারেন না।” উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বর মাসে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর হুমায়ুন কবীর আম জনতা উন্নয়ন পার্টি গঠন করেন, যা মালদা ও মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলিতে এবারের নির্বাচনে এক বিশেষ ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হাআমা/
