ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত এড়ানো এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ক্যাপিটল হিল বা কংগ্রেস ভবনে নজিরবিহীন বিক্ষোভ করেছেন দেশটির সাবেক সেনা সদস্যরা।
সোমবার (২০ এপ্রিল) মার্কিন কংগ্রেসের ক্যানন হাউস অফিস বিল্ডিংয়ে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। ‘অ্যাবাউট ফেস’ নামক একটি সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত এই বিক্ষোভে সাবেক সেনাদের পাশাপাশি বর্তমান কর্মরত সেনাদের পরিবারের সদস্যরাও অংশ নেন। বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশ বাধা দিলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং সেখান থেকে অন্তত ৬০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মার্কিন প্রশাসন বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে যে অবস্থান নিয়েছেন, তা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। তারা মনে করেন, যুদ্ধ বন্ধ করার সাংবিধানিক ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকলেও তারা এর কার্যকর প্রয়োগ করছে না। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একজন সাবেক সেনাসদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কংগ্রেসের ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তারা নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। সাধারণ মানুষকে সুদূর ক্যালিফোর্নিয়া থেকে এত দূরে এসে বলতে হচ্ছে যে, কংগ্রেস যেন ট্রাম্পের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এটি তাদের দায়িত্বের চরম অবহেলা বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আরেকজন বিক্ষোভকারী বলেন, ইরাক যুদ্ধের সময় মার্কিন প্রশাসন যেসব প্রতিশ্রুতি, অজুহাত আর যুক্তি দিয়েছিল, ইরানের ক্ষেত্রেও আজ ঠিক একই ধরনের বয়ান তৈরি করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতিকে বৈধতা দিতে এসব রাজনৈতিক যুক্তি বারবার পরিবর্তন করা হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। বিক্ষোভকারীরা কংগ্রেস ভবনের ভেতরে অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এতে অস্বীকৃতি জানালে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের ওপর চড়াও হয় এবং অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে আটক করে নিয়ে যায়। এই ঘটনার পর পুরো কংগ্রেস ভবন এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বর্তমান সেনাদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা এই উত্তেজনা সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুত রাজনৈতিক সমাধান এবং যুদ্ধবিরোধী সিদ্ধান্ত না আসে, তবে আরও অনেক প্রাণহানি ঘটতে পারে। এই অকাল প্রাণহানি ঠেকাতে তারা মার্কিন কংগ্রেসের প্রতি দ্রুত আইনগত ও নীতিগত উদ্যোগ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
টিএইচএ/
