দীর্ঘ এক দশকের সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটিয়ে সিরিয়া থেকে তাদের সমস্ত সৈন্য প্রত্যাহার করে নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেনা প্রত্যাহার মানেই যে সিরিয়া সংকটের অবসান, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বরং মার্কিন বাহিনীর এই প্রস্থানের ফলে সিরিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ক্ষমতার নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, যা কুর্দি বাহিনী, আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং ভঙ্গুর কূটনৈতিক আলোচনার ভবিষ্যৎকে এক অনিশ্চিত পথে ঠেলে দিয়েছে। সম্প্রতি আল-জাজিরার পডকাস্ট অনুষ্ঠান ‘দ্য টেক’-এর এক বিশেষ বিশ্লেষণে সিরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এই বিদায়ের কারণ ও পরবর্তী প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সিরিয়ায় আইসিসের (ISIS) বিরুদ্ধে লড়াই এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে মার্কিন বাহিনী সেখানে অবস্থান করছিল। কিন্তু ওয়াশিংটনের এই হঠাৎ সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিয়েছে। বিশেষ করে সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মোতায়েন থাকা কুর্দি বাহিনীর ভবিষ্যৎ এখন বড় প্রশ্নের মুখে। মার্কিন সমর্থন ছাড়া তারা তুরস্ক বা আসাদ সরকারের চাপের মুখে কতটা টিকে থাকতে পারবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। এছাড়া এই শূন্যস্থানে ইরান ও রাশিয়ার প্রভাব আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সেনা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্তটি কেবল একটি সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদী মার্কিন বৈদেশিক নীতির পরিবর্তনের প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। পর্দার আড়ালে চলা বিভিন্ন জটিল আলোচনা এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র তাদের এই অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তবে এই প্রস্থানের ফলে সিরিয়ায় চলমান গৃহযুদ্ধ বা জঙ্গিবাদের পুনরুত্থান ঠেকানো সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়ে গেছে। যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশটিকে পুনর্গঠন করার যে প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল, তা এখন আরও জটিল রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে আটকে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
টিএইচএ/
