মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তিসহ সব বৈদেশিক চুক্তি জনসমক্ষে প্রকাশ, সংসদে উত্থাপন এবং দেশবিরোধী চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট। জোটের পক্ষ থেকে দাবি আদায়ে জাতীয় সংসদ অভিমুখে মিছিল এবং মিছিল শেষে স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সংসদ ভবনের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তারা জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া এভিনিউতে অবস্থান নেন।
পরে জোটের শীর্ষ নেতারা স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে দেখা করেন এবং স্মারকলিপি দেন। এ সময় স্পিকার তাদের কথা শোনেন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
এর আগে সমাবেশে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি দেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। এ ধরনের চুক্তির মাধ্যমে দেশের কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্য খাত বিদেশি নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই অবিলম্বে জাতীয় স্বার্থবিরোধী সব চুক্তি বাতিল করতে হবে।
বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আমরা কখনোই দেশকে কোনো বিদেশি শক্তির কাছে বন্ধক দিইনি। অথচ বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশবিরোধী চুক্তির মাধ্যমে সেই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অবিলম্বে এসব চুক্তি বাতিল করতে হবে।
বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি করে করা এ চুক্তির ফলে দেশের জ্বালানি, কৃষি ও প্রতিরক্ষা খাতে বিদেশি নির্ভরতা বাড়বে। এমনকি ভবিষ্যতে স্বাধীনভাবে বাণিজ্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, জনগণের অজ্ঞাতে সম্পাদিত এ চুক্তি দেশের স্বার্থবিরোধী। সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা করে তা বাতিল করতে হবে। অন্যথায় জনগণ রাজপথে আরো কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে। সমাবেশে ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক হামলাসহ বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে প্রস্তাব গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
বক্তারা আরও বলেন, এ চুক্তি গোপনে করা হয়েছে, জনগণ কিংবা সংসদকে অবহিত না করেই, যা সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার সরাসরি লঙ্ঘন। এছাড়াও এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে। রাশিয়া-চীনসহ বিভিন্ন দেশের সাথে বাণিজ্য করার ক্ষেত্রে মার্কিন মুখাপেক্ষি হয়ে থাকতে হবে, মার্কিনীদের কাছ থেকে চড়া মূল্যে সামরিক সরঞ্জামাদি কিনতে হবে। এরই মধ্যে ১৪টি বোয়িং বিমান কেনার কথা বলা হচ্ছে, যা বাড়তি মূল্যে যা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অশনি সংকেত।
এতে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-র সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফি রতন, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন কেন্দ্রীয় পাঠচক্র ফোরামের সমন্বয়ক শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী)-র সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাসদ (মাহবুব)-এর সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ ভূইয়া প্রমুখ।
হাআমা/
