টানা ভারী বর্ষণে রংপুরের পীরগঞ্জে পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ ধানখেত। এর মধ্যে তীব্র শ্রমিকসংকট। এর ফলে ধান কাটা ও মাড়াই ব্যাহত হচ্ছে। তবে বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক ঘোড়ার গাড়িতে করে কষ্টের ফসল ঘরে তুলছেন। সব মিলিয়ে চিন্তার ভাঁজ এবার কৃষকের কপালে।
গতকাল সোমবার উপজেলার বড়বিলা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শত শত বিঘা জমির পাকা ধান পানিতে ডুবে আছে। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও তার চেয়েও বেশি পানি জমে রয়েছে। পানি ক্রমেই বাড়তে থাকায় অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে অপরিপক্ব ধান কাটছেন। আবার অনেক খেতে কাটার উপযুক্ত সময় পেরিয়ে গেলেও শ্রমিক না পাওয়ায় ধান মাঠেই পড়ে আছে।
যেসব কৃষক ধান কাটছেন, তাঁদেরও পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে। পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে ধান কেটে তা শুকনো জায়গায় নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেকেই বিকল্প হিসেবে ঘোড়ার গাড়িতে করে বিল ও নদীপাড় থেকে ধান পরিবহন করছেন।
গাড়াবেড় গ্রামের কৃষক শামিম মিয়া বলেন, ‘হঠাৎ বৃষ্টিতে সব ধান পানির নিচে চলে গেছে। কৃষাণ (শ্রমিক) পাওয়া যাচ্ছে না, আর যাদের পাওয়া যাচ্ছে তারা অনেক বেশি মজুরি চাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে ঘোড়ার গাড়িতে ধান আনতে হচ্ছে।’
একই গ্রামের কৃষক সুমন মিয়া বলেন, ‘কৃষাণেরা আসতে চায় না। অনেক কষ্টে ধান কেটে আবার গাড়িতে করে আনতে হচ্ছে, এতে খরচও বেড়ে যাচ্ছে।’
নখারপাড়া গ্রামের কৃষক সোনা মিয়া বলেন, ‘এভাবে যদি আরও কয়েক দিন পানি থাকে, তাহলে ধানের বড় ধরনের ক্ষতি হবে। আমরা এখন দিশাহারা হয়ে পড়েছি। কৃষাণ সংকট আর পানির কারণে সব দিক থেকেই ক্ষতির মুখে পড়েছি। এমন আবহাওয়ায় ধান বাড়িতে নিয়ে গিয়েও কী করি?’
এনআর/
