নতুন ব্যবস্থাপনা নীতি বাস্তবায়ন করবে ইরান : মোজতবা খামেনি

by naymurbd1999@gmail.com

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল আগ্রাসন নীতির বিরুদ্ধের অবস্থান নিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর নতুন ব্যবস্থাপনা নীতি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে ইরান। একই সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন অধ্যায়’। জাতীয় পারস্য উপসাগর দিবস উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি এমনটা জানিয়েছেন।

প্রেস টিভি প্রকাশিত এক সংবাদের তথ্য মতে, গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী প্রতি বছর ৩০ এপ্রিল জাতীয় পারস্য উপসাগর দিবস পালন করে ইরান। ১৬২২ সালে উপকূলীয় অঞ্চলে পর্তুগিজ ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে বিজয়ের স্মরণে এই দিনটি পালন করা হয়। তখন সাফাভি সাম্রাজ্যের শাসক শাহ আব্বাস ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সহায়তায় পর্তুগিজ নিয়ন্ত্রিত হরমুজ দ্বীপে আক্রমণ চালায়। শেষ পর্যন্ত পর্তুগিজদের পরাজিত করে এই অঞ্চল থেকে বিতাড়িত করা হয়।

বিজ্ঞাপন
banner

এই একই হরমুজ প্রণালিতে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কথিত সামরিক হামলার ঠিক দুই মাস পর আবারো অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই উদযাপনটি।

খামেনি পারস্য উপসাগরকে আঞ্চলিক মুসলিম দেশগুলোর জন্য ‘অপরিবর্তনীয় আশীর্বাদ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিসহ এই জলরাশি শুধু জাতিগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে না বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অনন্য বাণিজ্য পথও তৈরি করে।

তিনি আরো বলেন, ইতিহাস জুড়ে ইউরোপীয় ও মার্কিন শক্তিগুলোর বারবার আগ্রাসন, অস্থিতিশীলতা ও হুমকি এই অঞ্চলে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তার ভাষায়, এসব ছিল ‘বিশ্বের ঔদ্ধত্যপূর্ণ শক্তিগুলোর ষড়যন্ত্রের অংশ’ যার সাম্প্রতিক উদাহরণ হলো যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের ওপর আক্রমণ।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিনা উসকানিতে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালায়। ওই সংঘাতে ইসলামী বিপ্লবের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন বলে দাবি করা হয়। একই দিন মিনাবের একটি স্কুলে চালানো টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় ১৬৮ শিক্ষার্থী নিহত হয়।

এর জবাবে ৪০ দিনে ১০০ দফা পাল্টা হামলা চালায় ইরান। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ৪০-৫০ বিলিয়ন ডলারের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে সিএনএন।

গত ৭ এপ্রিল ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের পারস্পরিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি আলোচনায় বসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দল।

ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২,৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এ ছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।

 

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222