৩৬নিউজ ডেস্ক: সীমান্ত হত্যা ও কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে কোনো দেশের সঙ্গে প্রকৃত বন্ধুত্ব গড়ে উঠতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্স আয়োজিত ‘শাপলা গণহত্যা: বিচারহীনতার এক যুগ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, কাঁটাতার দিয়ে বন্ধুত্বের সম্পর্ক হয় না বরং এসব কাঁটাতার ভেঙে ভারতীয় জনগণই বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জুলাই বিপ্লবে এদেশের মানুষ জীবন দিয়েছে বাংলাদেশকে কোনো দেশের করদ রাজ্য হিসেবে দেখার জন্য নয়।
শাপলা চত্বরের স্মৃতিচারণ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশে এক গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। যদি সেই সময়ে এই গণহত্যা ঠেকানো যেত, তবে জুলাইয়ের গণহত্যা দেখার প্রয়োজন হতো না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, তৎকালীন সময়ে অনেকেই এই হত্যাকাণ্ডের সাফাই গেয়েছেন এবং সমর্থন করেছেন। ১৩ দফা দাবির সঙ্গে কারও দ্বিমত থাকতে পারে, কিন্তু দাবি নিয়ে আসা নিরস্ত্র ও নিরপরাধ জনগণের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে গণহত্যা চালানো কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। আন্তর্জাতিক আইনেও এটি একটি গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধ। অথচ এমন অপরাধ করার পরও তৎকালীন শাসক শেখ হাসিনা সংসদ ভবনে দাঁড়িয়ে এ নিয়ে কটূক্তি করতে দ্বিধাবোধ করেননি।
সে সময়ের রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, আলেমদের ওপর সেই নৃশংস হামলার ঘটনায় তৎকালীন রাজনৈতিক দলগুলোর দায় রয়েছে। তারা যথাযথ ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছিল। এমনকি বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপিও সেই কঠিন সময়ে আলেমদের পাশে এসে দাঁড়াতে পারেনি। আলেম-ওলামাদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বিগত সরকার মাদ্রাসা ছাত্রদের জঙ্গি হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দাড়ি-টুপিওয়ালা ছাত্রদের ছাত্রশিবির হিসেবে তকমা দিয়েছে। দেশের সব আন্দোলন ও মুক্তির লড়াইয়ে আলেমদের যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, তা আর অস্বীকার করার সুযোগ নেই। জাতীয় ইতিহাসে তাদের এই অবদান অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিনসহ অন্যান্য জাতীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
টিএইচএ/
