আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষা এবং আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামী এক বছর দেশটির নাগরিকদের সোনা না কেনার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা ব্লুমবার্গের বরাতে জানা যায়, হায়দরাবাদে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “আগামী এক বছর যেকোনো অনুষ্ঠান বা উৎসবে আমাদের স্বর্ণালঙ্কার কেনা থেকে বিরত থাকা উচিত।” একইসঙ্গে তিনি নাগরিকদের জ্বালানি খরচ কমানো, অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ বর্জন এবং বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় রোধে বিলাসদ্রব্য আমদানি কমানোর পরামর্শ দেন। ভারতের মতো দেশে, যেখানে বিয়ে ও ধর্মীয় উৎসবে সোনা একটি অপরিহার্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক অনুষঙ্গ, সেখানে প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বান বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চীন ও ভারতের মতো দেশগুলো বৈশ্বিক স্বর্ণের বাজারের প্রধান নিয়ন্ত্রক। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে ভারতে স্বর্ণালঙ্কারের চাহিদা ছিল ৪৩০.৫ টন, যা আগের বছরের তুলনায় ২৪ শতাংশ কম। তবে দাম বৃদ্ধির কারণে এই খাতে ভারতীয়দের ব্যয়ের পরিমাণ রেকর্ড ৪৯ বিলিয়ন ডলারে ঠেকেছে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের তথ্যে দেখা যায়, স্থানীয় বাজারে সোনার দাম ৮১ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা অলঙ্কার কেনা কমিয়ে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তার পর ভারতের বড় বড় জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে বড় ধরনের ধস লক্ষ্য করা গেছে।
মূলত মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় ভারত কঠিন চাপের মুখে পড়েছে। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই প্রধানমন্ত্রী মোদি জনগণকে পেট্রোল-ডিজেলের ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন ব্যবহার, বাড়ি থেকে কাজ করা (Work from Home) এবং ভার্চুয়াল মিটিংয়ের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সংকটময় এই সময়ে জাতীয় স্বার্থে নাগরিকদের ‘যৌথ দায়িত্ব’ পালনেরও অনুরোধ জানান তিনি।
টিএইচএ/
