আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: সকাল থেকে এ পর্যন্ত সংবাদ পাওয়া পর্যন্ত ১০০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ভারতের উত্তর প্রদেশে হঠাৎ শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টি ও প্রবল ঝড়ে মৃত্যু আরও বাড়তে পারে। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে প্রয়াগরাজে, যেখানে ২১ জন মারা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এছড়াও ভাদোহীতে ১৮ জন, মির্জাপুরে ১৫ জন, ফতেহপুরে ১০ জন, উনাও ও বাদায়ুনে ৬ জন করে, প্রতাপগড় ও বারাবাঁকিতে ৪ জন করে এবং অন্যান্য বিভিন্ন জেলায় আরও অনেকে নিহত হয়েছেন। সীতাপুর, রায়বেরেলি ও চান্দৌলিতে ২ জন করে এবং আরও কয়েকটি জেলায় ১ জন করে মৃত্যু হয়েছে।
ঝড়ের সময় হঠাৎ আবহাওয়ার বড় পরিবর্তন ঘটে এবং ধুলার ঝড় চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে গাছপালা উপড়ে পড়ে, বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে যায়, রাস্তার হোর্ডিং উড়ে যায় এবং বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে রাস্তার পাশে, ফ্লাইওভার ও যেকোনো আড়ালে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
বিভিন্ন এলাকায় দেয়াল ও টিনের ছাদ ধসে প্রাণহানি ঘটে। বজ্রপাতের ঘটনাও মৃত্যুর কারণ হয়েছে। ফতেহপুরে খাগা তহসিলে আটজন মারা যায়, যার মধ্যে পাঁচজন নারী ছিল। কয়েকটি জায়গায় নদীর ওপর থাকা পন্টুন সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কয়েকটি গ্রাম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
ভাদোহী ও মির্জাপুরে পন্টুন সেতু ভেঙে পড়ায় প্রায় ২০টি গ্রামের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের খালি হাতে উদ্ধার কাজ চালান।
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রবল বাতাসে একজন ব্যক্তি টিনের ছাদের সঙ্গে প্রায় ৫০ ফুট দূরে ছিটকে পড়ে যান এবং গুরুতর আহত হন। তিনি জানান, তিনি দড়ি ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন, কিন্তু ঝড়ের তীব্রতায় তাকে বাতাসে উড়িয়ে নিয়ে যায়।
সরকার জানিয়েছে, ঝড়-বৃষ্টিতে নিহত, আহত এবং সম্পদের ক্ষতির সব ঘটনার তথ্য জেলা প্রশাসন থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং প্রতিটি জেলার রিপোর্ট নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
