আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: মধ্য আমেরিকার দেশ হন্ডুরাসে পৃথক সশস্ত্র হামলায় অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সংঘটিত এসব হামলা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে দেশটির অন্যতম ভয়াবহ সহিংস ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুক্রবার (২২ মে) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির উত্তরাঞ্চলের ত্রুজিলো পৌর এলাকায় একটি পাম বাগানে হামলা চালিয়ে অন্তত ১৯ জনকে হত্যা করে বন্দুকধারীরা। স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহতদের বেশিরভাগই ওই এলাকার শ্রমিক বা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছিলেন।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা নির্বিচারে গুলি চালায়। নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বয়সী ব্যক্তির বয়স ছিল ৬১ বছর। ঘটনাস্থলের ছবিতে শ্রমিকদের মরদেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
এদিকে গুয়াতেমালা সীমান্তবর্তী পশ্চিমাঞ্চলের ওমোয়া এলাকায় পৃথক আরেক হামলায় ছয় পুলিশ সদস্য নিহত হন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্যাংবিরোধী অভিযানে যাওয়ার সময় সশস্ত্র হামলার মুখে পড়েন তারা।
দুই হামলার পর হন্ডুরাসের জাতীয় পুলিশ বাহিনী জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তাৎক্ষণিক বিশেষ অভিযান চালানো হবে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হন্ডুরাস দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাং সহিংসতা ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে সংগ্রাম করছে। ২০২২ সালে দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হলেও চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট নাসরি “টিটো” আসফুরা ক্ষমতায় আসার পর সেই জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হয়।
তবে সম্প্রতি সরকার গ্যাং ও মাদক চক্রকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করার আইন পাস করেছে। একই সঙ্গে সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে নতুন বিশেষ ইউনিটও গঠন করা হয়েছে।
ত্রুজিলো এলাকার হামলাটি আগুয়ান নদী উপত্যকার কাছে সংঘটিত হয়। এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে ভূমি দখল, মাদক পাচার ও পাম তেল ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘর্ষের জন্য পরিচিত।
স্থানীয় কৃষক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, কিছু বহুজাতিক কৃষি কোম্পানি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে ভূমি দখল ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, ওই এলাকায় গত কয়েক বছরে ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। বিশেষ করে পরিবেশ ও ভূমি অধিকারকর্মীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
