৩৬ নিউজ ডেস্ক: লাখো মুসলিমের ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে তাঁবুর নগরী মিনা। আজ সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকে পবিত্র মিনার প্রান্তরে হাজিদের অবস্থানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। সৌদি সরকারের নির্দেশনা ও নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, গতকাল রবিবার রাত থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মক্কার মসজিদুল হারাম থেকে ইহরাম বেঁধে মিনায় সমবেত হতে শুরু করেন। শুভ্র পোশাকে ছেয়ে যাওয়া মিনার বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন শুধুই ইবাদত ও বন্দেগির আবহ। হাজিরা নিজ নিজ তাঁবুতে অবস্থান করে নফল নামাজ, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, জিকির ও দরুদ পাঠের মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন।
হজের ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, মিনায় অবস্থানের মধ্য দিয়ে হজের মূল পর্বের জন্য হাজিরা নিজেদের আত্মিকভাবে প্রস্তুত করেন। আজ পুরো দিন ও রাত মিনায় অবস্থান করবেন আল্লাহর মেহমানরা। এখানে তারা জোহর, আসর, মাগরিব, এশা এবং আগামীকাল ৯ জিলহজের ফজরসহ মোট পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন। ইসলামের নিয়ম অনুযায়ী এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মিনায় জামাতে আদায় করা সুন্নত। মিনায় এই পুণ্যময় রাত্রিযাপন শেষে আগামী ৯ জিলহজ (মঙ্গলবার) সকালে আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে রওনা হবেন হাজিরা। সেখানে এ বছর হজের মূল খুতবা দেবেন মসজিদে নববির প্রধান ইমাম ও খতিব শায়েখ আলি বিন আবদুল রহমান আল-হুজাইফি। খুতবা শ্রবণ শেষে হাজিরা একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করবেন, কারণ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করাই হজের প্রধান রোকন বা মূল অংশ।
এরপর ৯ জিলহজ সূর্যাস্তের পর হাজিরা মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা দেবেন এবং সেখানে গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করে উন্মুক্ত আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করবেন। পরদিন ১০ জিলহজ সূর্যোদয়ের আগে মুজদালিফা থেকে পুনরায় মিনায় ফিরে শুধু বড় জামারায় (শয়তানকে উদ্দেশ্য করে) কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন। কঙ্কর নিক্ষেপ শেষে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় পশু কোরবানি দেবেন এবং মাথা মুণ্ডন কিংবা চুল ছোট করে ইহরাম ভঙ্গ করবেন। পরবর্তীতে ১১ ও ১২ জিলহজ হজের বাকি আনুষ্ঠানিকতা ও কঙ্কর নিক্ষেপ শেষে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের পূর্বেই মিনা ত্যাগ করবেন হাজিরা। সংশ্লিষ্টদের অনুমান, এ বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১৬ থেকে ১৮ লাখ মুসলমান হজ পালন করছেন, যার মধ্যে বাংলাদেশ থেকেই অংশ নিয়েছেন সাড়ে ৭৮ হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ।
টিএইচএ/
