আন্তর্জাতিক ডেস্ক: লাখো মুসলিমের ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে সৌদি আরবের পবিত্র মিনা প্রান্তর। আজ সোমবার (২৫ মে) পবিত্র জিলহজ মাসের ৮ তারিখ সকাল থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ২০ লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান মিনায় সমবেত হতে শুরু করেছেন। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। শুভ্র পোশাকে আবৃত আল্লাহর মেহমানদের উপস্থিতিতে মিনার বিস্তীর্ণ উপত্যকায় এক অভূতপূর্ব ও আবেগঘন আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
হজের নিয়ম অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ৮ তারিখ হাজিরা মিনায় অবস্থান করেন, যাকে ‘ইয়াওমুত তারবিয়াহ’ বা তারবিয়াহর দিন বলা হয়। এই দিনে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর সুন্নাহ অনুসরণ করে হাজিরা মিনায় অবস্থান নিয়ে ইবাদত-বন্দেগি করেন। এখানে তারা জোহর, আসর, মাগরিব, এশা এবং আগামীকাল ৯ জিলহজের ফজরসহ মোট পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, মিনায় অবস্থানকালে এই নামাজগুলো জামাতের সাথে কসর (সংক্ষিপ্ত) করে আদায় করা সুন্নত, তবে এখানে দুই ওয়াক্তের নামাজ একসাথে জমা বা একত্র করা হয় না। আগামীকাল ৯ জিলহজ সূর্যোদয়ের পর হাজিরা হজের প্রধান রোকন বা মূল অংশ পালনের জন্য আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে রওনা হবেন।
ঐতিহাসিকভাবে এই দিনটিকে ‘ইয়াওমুত তারবিয়াহ’ বা পানি পানের দিন বলার কারণ হলো, প্রাচীনকালে হজের এই দিনটিতে হাজিরা মক্কা থেকে পর্যাপ্ত পানি পান করে নিতেন এবং মিনা ও আরাফাতের দীর্ঘ সফরের জন্য সঙ্গে পানি সংরক্ষণ করতেন, যেন হজের শেষ দিন পর্যন্ত তাদের পানির কোনো সংকট না হয়। অন্যদিকে, মক্কার মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত এই মিনা মূলত পাহাড়বেষ্টিত একটি জনশূন্য উপত্যকা, যা কেবল হজের নির্দিষ্ট দিনগুলোতেই মানুষের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। কোরবানির দিন (১০ জিলহজ) ও আইয়ামে তাশরিকের দিনগুলোতে এখানে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে লাখ লাখ পশু কোরবানি বা রক্ত প্রবাহিত করা হয় বলে একে ‘মিনা’ নামকরণ করা হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই ধর্মীয় সমাবেশকে সফল করতে এবার সৌদি আরব সরকার অভূতপূর্ব ও ব্যতিক্রমী সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মিনার প্রায় ২৫ লাখ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে অত্যাধুনিক ও উন্নতমানের তাঁবু নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে ২৬ লাখেরও বেশি হাজির থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এবারের হজ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ৩০ হাজারেরও বেশি মাঠপর্যায়ের কর্মীকে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ‘সবুজ মিনা’ বা পরিবেশবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবার মিনা প্রান্তরে ৬০ হাজারেরও বেশি গাছ রোপণ করা হয়েছে এবং হাজিদের সুবিধার্থে বিভিন্ন ভাষায় ৬ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি নির্দেশনামূলক ও সচেতনতামূলক সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
টিএইচএ/
