একের পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছেন ফেনী জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক এম এ খালেক। বন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুকে ‘প্রিয় নবী’ নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তিনি।
তার এমন বেফাঁস মন্তব্যে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে দলটির নেতাকর্মীদের।
গত শনিবার জেলার দাগনভূঞায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি এ ধরনের মন্তব্য করেন। মুহূর্তে তার বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যদিও পরে ভুল স্বীকার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলীয় একাধিক নেতাকর্মী বলেন, ‘তিনি একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করে চলছেন। এবার তিনি এক মন্ত্রীকে ‘নবী’ বলেছেন। তার এমন মন্তব্য ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছে।’
গত ১৬ এপ্রিল ফেনী সদর উপজেলার মোটবী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের দিয়ে ভিআইপি প্রটোকল নিয়ে বিতর্কিত হন অধ্যাপক এম এ খালেক।
২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ফেনী সদর উপজেলা তাঁতি দলের অনুষ্ঠানে ‘বিএনপি হলো একটা ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দল। এরা গণতন্ত্র বুঝে না, এরা নির্বাচন বুঝে না। এরা জনগণের মনের বাসনা বুঝে না, এরা বুঝে ক্ষমতা। তাদের ক্ষমতা দরকার। নির্বাচন-টির্বাচন গণতন্ত্র এগুলোর ধার ধারে না তারা।
এদিকে জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেকের এমন সব বেফাঁস মন্তব্যে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়ছে দলীয় নেতাকর্মীরা। তার এসব কাণ্ডের দায় বিএনপি নেবে না বলে জানান দলটির একাধিক নেতা।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘অধ্যাপক খালেক দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত কিন্তু ইদানিং বিভিন্ন সভায় তার বক্তব্য নিয়ে দলের নেতাকর্মীরা বিব্রত বোধ করছে। এটি আমরা আশা করি না।’
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, ‘আমরা বিব্রত বোধ করছি। একজন প্রবীণ নেতা এমন বক্তব্য দিতে পারেন না। আমরা আশা করবো ভবিষ্যতে এমন বক্তব্য থেকে উনি বিরত থাকবেন।’
এনআর/
