মো. রেজওয়ান (রাবি প্রতিনিধি): মতিহারের সবুজ চত্বর খ্যাত উত্তরের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় যেন ক্ষণিকের জন্য ভর করেছিল দক্ষিণের চিত্রাপাড়ের নড়াইলে। গত ১ জুন নড়াইল জেলার ঐতিহ্যবাহী হাটবাড়িয়া জমিদার বাড়ি ডিসি পার্কে বসেছিল ‘নড়াইল জেলা সমিতি, রাজশাহী’র এক বর্ণিল ও উৎসবমুখর মিলনমেলা।
‘স্মৃতিতে মতিহার’ শিরোনামের এই ব্যতিক্রমী ও নান্দনিক আয়োজনে অংশ নেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন পর চেনা মুখগুলোর এমন এক হওয়া আর স্মৃতির ঝাঁপি খুলে বসার গল্পে পুরো পার্ক জুড়ে তৈরি হয়েছিল এক অনন্য আবেগঘন পরিবেশ। দিনব্যাপী এই উৎসবের শুরুটা হয়েছিল প্রথাগত পরিচয় পর্ব আর মনখোলা আড্ডার মধ্য দিয়ে, যেখানে প্রবীণ আর নবীনের মেলবন্ধনে এক চমৎকার দৃশ্যের অবতারণা হয়। সাবেক শিক্ষার্থীরা ফিরে গিয়েছিলেন তাদের ক্যাম্পাস জীবনের সেই সোনালী দিনগুলোয়, আর বর্তমান শিক্ষার্থীরা মুগ্ধ হয়ে শুনছিলেন বড় ভাই-বোনদের মতিহার চত্বরের নানা গল্প ও ইতিহাস।
স্মৃতিচারণের পাশাপাশি দিনভর এই আয়োজনে ছিল নানামুখী আকর্ষণ। দুপুরের প্রীতিভোজের পর শুরু হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। যেখানে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের কণ্ঠের গান, কবিতা আর প্রাণবন্ত পারফর্ম্যান্স পুরো অনুষ্ঠানস্থলকে মুখরিত করে রাখে। এছাড়া অনুষ্ঠানের শেষদিকের আকর্ষণীয় রাফেল ড্র এবং গ্রুপ ফটোসেশন অংশগ্রহণকারীদের আনন্দের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়।
আয়োজকরা জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা নড়াইলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে জেলাভিত্তিক ভ্রাতৃত্ববোধ, পারস্পরিক যোগাযোগ রক্ষা ও যেকোনো প্রয়োজনে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই এই সমিতির পথচলা। নিজ জেলায় এসে এ ধরনের মেলবন্ধন শুধু স্মৃতিরোমন্থনই নয়, বরং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও মেধা বিকাশে দারুণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা। একই সঙ্গে এই ঐক্যবদ্ধ পথচলা আগামীতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজক কমিটির সদস্যরা। দিনশেষে এই মিলনমেলা শুধু একটি অনুষ্ঠান হয়ে থাকেনি, বরং প্রতিটি অংশগ্রহণকারীর মনে দাগ কেটে যাওয়া এক আনন্দঘন ও স্মরণীয় দিন হিসেবে জমা রইলো স্মৃতির পাতায়।
টিএইচএ/
