দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিশাল সমাবেশ

by Abid vs36

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের সংসদ ভবনের নিকটবর্তী দিল্লির ‘যন্তর মন্তর’-এ বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ করছে দেশটির আলোচিত ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে যোগ দিতে ইতিমধ্যে দেশে ফিরেছেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। এই কর্মসূচি ঘিরে দিল্লির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। আজ শনিবার (৬ জুন) সকাল থেকেই ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে ‘ককরোচ’ (তেলাপোকা) সমর্থকেরা যন্তর মন্তরে হাজির হতে শুরু করেন। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুসারে, গুরুত্বপূর্ণ এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে আজ সকালেই যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন থেকে দেশে ফিরেছেন অভিজিৎ। সমাবেশকে ঘিরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থানগুলোতে দিল্লি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

দিল্লিতে পৌঁছানোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ বলেন, যন্তর মন্তরে সবার সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় আছি। ভালোবাসা ও শান্তির মধ্য দিয়েই আমাদের এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে হবে। এর আগে চলতি সপ্তাহে অভিজিৎ ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, দেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাকে ঘিরে অনিয়ম ও ত্রুটির অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে একটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করতে তিনি ভারতে ফিরছেন। এদিকে ভারতের প্রখ্যাত শিক্ষা সংস্কারক ও জলবায়ু আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুকও এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি আগেই আলটিমেটাম দিয়েছিলেন যে, ৫ জুনের মধ্যে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করলে তিনি স্বশরীরে এই আন্দোলনে অংশ নেবেন।

বিজ্ঞাপন
banner

জানা গেছে, ককরোচ জনতা পার্টির এই বৃহৎ সমাবেশ ঠেকাতে দিল্লি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মামলাকারীদের দাবি ছিল, ‘ককরোচ’ সমর্থকদের রাজধানীমুখী স্রোত ও সমাবেশ ঠেকাতে দিল্লির বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, মেট্রোস্টেশন ও জাতীয় সড়কের প্রবেশপথগুলোতে যেন উপযুক্ত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে মামলার জরুরি শুনানি গ্রহণের সেই আবেদন গতকাল শুক্রবারই খারিজ করে দেন আদালত। আদালতের গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার পর আজ শনিবার দিল্লি পুলিশ জানায়, নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ এই সমাবেশে তাদের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই।

ভারতের তরুণদের মধ্যে তুমুল আলোচিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) মূলত একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন আন্দোলন হিসেবে গত মে মাসে যাত্রা শুরু করে। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি বিতর্কিত মন্তব্যের সূত্র ধরেই এই পার্টি গড়ে ওঠার মূল প্রেক্ষাপট তৈরি হয়। একটি মামলার শুনানিতে বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার তরুণদের ‘ককরোচ’ বা ‘পরজীবী’ বলে উল্লেখ করলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ভারতীয় শিক্ষার্থী অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গঠনের উদ্যোগ নেন। প্রথমে এটি শুধু ফেসবুক-এক্সের একটি রসাত্মক প্রতিবাদী পেজ হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকলেও, দ্রুতই দেশের লাখ লাখ বেকার ও ক্ষুব্ধ তরুণ এতে যুক্ত হতে থাকেন। দেশের ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, প্রশ্নফাঁস, সরকারি নিয়োগে অনিয়ম ও তরুণদের পুঞ্জীভূত হতাশাকে সামনে এনে আন্দোলনটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সিজেপি কোটি কোটি অনুসারী অর্জন করে এবং শেষ পর্যন্ত অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক রূপ থেকে এটি মাঠপর্যায়ের বাস্তব প্রতিবাদ কর্মসূচিতে রূপ নেয়।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222