আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: সহজে বরফ গলছে না। যতেই সময় যচ্ছে কেবলই পৃথিবী আটকে যাচ্ছে। এবার লোহিত সাগরে (রেড সি) ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। পাশাপাশি ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে গোষ্ঠিটি।
সোমবার (৮ জুন) এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি।
বিবৃতিতে বলা হয়, লোহিত সাগরে ইসরায়েলি সামুদ্রিক যান চলাচলের ওপর ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা’ আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে জানিয়েছে, এই ঘোষণার পর থেকে শত্রুপক্ষের যেকোনো নৌ-চলাচল তাদের জন্য বৈধ সামরিক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।
এদিকে, হুথিরা দাবি করেছে যে তারা ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে এবং হামলাগুলো নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলের দিকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ শনাক্ত করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করতে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, হুথিদের এ পদক্ষেপ লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ চলাকালে হুথিদের ধারাবাহিক হামলার কারণে বহু আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছিল।
এদিকে, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই হুথিদের এই ঘোষণা এসেছে। সোমবার দুই দেশ পরস্পরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে, যা বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি ও সম্ভাব্য শান্তি উদ্যোগকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
উল্লেখ্য, হুথি বিদ্রোহীরা ২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে দেশটির বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু হলে ইয়েমেনে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এ সংঘাতে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কয়েক লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
