আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা চুক্তি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হলে সবার আগে পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন করতে হবে। আস্থা ও সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের আগে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বা বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা বাস্তবসম্মত নয়।
বুধবার (১৭ জুন) অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রিন্স ফয়সাল বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পথে রয়েছে, তা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিরসন এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তার ভাষায়, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অগ্রগতি। আমরা আশা করছি, এই সমঝোতা সংঘাতের অবসান ঘটাবে এবং পারমাণবিক ইস্যুসহ বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় সমাধানের পথ খুলে দেবে।
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষই কূটনীতিকে সুযোগ দিতে আন্তরিক বলে তিনি আশাবাদী। তবে ভবিষ্যৎ চুক্তির কার্যকারিতা নির্ভর করবে শক্তিশালী যাচাই ও তদারকি ব্যবস্থার ওপর।
তিনি বলেন, চুক্তির বিস্তারিত বিষয়গুলোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই যাচাই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে আঞ্চলিক দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আস্থা পায়।
ইরানে প্রস্তাবিত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ বা পুনর্গঠন তহবিল সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই বলে জানান প্রিন্স ফয়সাল। তবে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের হামলা পারস্পরিক বিশ্বাসকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
তিনি বলেন, ইরান শুধু সৌদি আরব নয়, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের সব সদস্য দেশের ওপরই হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের মধ্যে আস্থার বড় সংকট তৈরি হয়েছে।
প্রিন্স ফয়সাল জানান, বেইজিং সমঝোতার পর সৌদি আরব ও ইরান ধীরে ধীরে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথে এগোচ্ছিল। বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাত সেই অগ্রগতি অনেকটাই পিছিয়ে দিয়েছে।
সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতেই মনোযোগী বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তার মতে, আমাদের বিনিয়োগ তহবিলের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ইতোমধ্যে নির্ধারিত হয়েছে এবং অধিকাংশ অর্থ দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ রয়েছে। ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সহযোগিতার কথা ভাবার আগে আস্থা পুনর্গঠন এবং সম্পর্ক স্বাভাবিক করা প্রয়োজন। এরপর ভবিষ্যতে সহযোগিতা ও বিনিয়োগের পথ তৈরি হতে পারে।
প্রিন্স ফয়সাল বলেন, ইরানের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি যেন প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি না করে, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা ভালোভাবেই চলছিল। জাহাজ চলাচলে কোনো সমস্যা ছিল না। নতুন কোনো ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
সূত্র : আরব নিউজ ও আরব গেজেট
