নিজস্ব প্রতিবেদক:: দেশ অত্যন্ত সঙ্কটকাল অতিক্রম করছে এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম।
রবিবার (২১ জুন) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে তিনি এই শঙ্কা প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে তিনি দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি, অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা এবং গাইবান্ধায় রামমূর্তি স্থাপনকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতির ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম বলেন, একদিকে বাংলাদেশে বিভিন্ন সীমান্তে পুশ-ইন চালানো হচ্ছে, অপরদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা তৈরি করে সঙ্কটকে ঘনীভূত করা হচ্ছে। তিনি গাইবান্ধার ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, গাইবান্ধায় রামমূর্তি স্থাপনকে কেন্দ্র করে সনাতনী ধর্মের ব্যানারে পতিত সরকারের লোকজন সংগঠিত হচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় রামমূর্তি মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশে কেন রাজপথে স্থাপন করতে হবে? মূর্তি সাধারণত মন্দিরে স্থাপন করা হয় এবং মন্দিরেই হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পূজা করে থাকে। কিন্তু হঠাৎ করে তারা কেন রাস্তায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় রামমূর্তি স্থাপন করতে চাচ্ছে, তা নিয়ে জনমতে তীব্র সন্দেহ ও সংশয় দানা বেঁধে উঠেছে।
ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা অভিযোগ করেন, মূর্তি স্থাপনকে কেন্দ্র করে উগ্রবাদী হিন্দু সম্প্রদায়ের কতিপয় নেতানেত্রী উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। বিশেষ করে অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তীর বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিদেশিদের সহায়তা নিয়ে আলাদা হিন্দু প্রদেশ গঠন করবো—চৈতালী চক্রবর্তীর এ ধরনের রাষ্ট্রদ্রোহী বক্তব্যে সর্বত্র প্রতিবাদের আগুন জ্বলে উঠেছে। তাঁর এই বক্তব্য স্পষ্ট দেশদ্রোহীতার শামিল। এছাড়া আরও কয়েকজন উগ্রবাদী হিন্দু যেভাবে বক্তব্য দিয়েছেন, তা রীতিমত আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে।
তিনি আরও যোগ করেন, এই বক্তব্যগুলোতে বিদেশি সহায়তার মতো কিছু আপত্তিকর শব্দ এবং ফ্রেমিং উঠে এসেছে, যা কোনো আইনি বা সামাজিক দাবির ভাষা নয়; বরং এটি ভূরাজনৈতিক হস্তক্ষেপের একটি নতুন পরিকল্পনা।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জয় শ্রী রাম’ বাংলাদেশের সাধারণ হিন্দুদের কোনো স্লোগান নয়, এটি মূলত ভারতের একটি রাজনৈতিক স্লোগান। ভারতে যেখানে প্রতিনিয়ত এই স্লোগান দিয়ে মুসলিম হত্যা ও ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, সেখানে এদেশের কতিপয় হিন্দু এর পক্ষে সাফাই গাইছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এদেশের মুসলমান ও ইসলামপন্থি জনগণ হিন্দুদের ঘরবাড়ি এবং উপাসনালয় পাহারা দিয়ে সুরক্ষা নিশ্চিত করেছিল, যার সচিত্র প্রতিবেদন ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকাসহ বিশ্বমিডিয়ায় স্থান পেয়েছিল।
মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের হিন্দু নাগরিকরা মায়ের পেটে শিশুরা যেমন নিরাপদ, ঠিক তেমনই নিরাপদে আছে। এই নিরাপত্তা হিন্দু রাষ্ট্র ভারতেও সংখ্যালঘুদের নাই।
তিনি সতর্ক করে বলেন, উগ্রবাদী হিন্দুরা হঠাৎ করে যেভাবে বাংলাদেশের মুসলমানদের আঘাত করে বক্তব্য ও হুমকি দিচ্ছে, তাকে স্বাভাবিকভাবে ভাবার কোনো সুযোগ নেই। এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ভারতীয় গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। এই ষড়যন্ত্র রুখতে দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে গভীর পর্যবেক্ষণ ও কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তিনি।
হাআমা/
