নিজস্ব প্রতিবেদক :: সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলুফা চৌধুরীর জাতীয় সংসদে দেওয়া কওমি শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গ সংবলিত বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। গভীর নিন্দা জানিয়ে দলটি এক বিবৃতিতে বলেছে, কওমি আলেম-উলামা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা কোনো বিচ্ছিন্ন বা বিশেষ গোষ্ঠী নয়; তারা বাংলাদেশেরই নাগরিক এবং সংবিধানপ্রদত্ত সমান অধিকার ভোগ করেন। তাই কোনো জনগোষ্ঠীকে এমনভাবে উপস্থাপন করা উচিত নয়, যাতে তারা রাষ্ট্রের মূলধারা থেকে আলাদা বা বিশেষ সুবিধাভোগী হিসেবে প্রতীয়মান হয়।
রোববার (২১ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক এবং মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী এ প্রতিবাদ জানান।
জমিয়তের নেতারা বলেন, কওমি মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা দেশের ধর্মীয়, নৈতিক ও সামাজিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। রাষ্ট্রের বাজেট ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় দেশের অন্যান্য নাগরিকের মতো তাদের প্রয়োজন ও স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়াও স্বাভাবিক বিষয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একজন সংসদ সদস্যের বক্তব্যে জাতীয় ঐক্য, সম্প্রীতি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন। কিন্তু নিলুফা চৌধুরীর মন্তব্য কওমি অঙ্গনের অনেকের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল বক্তব্য প্রত্যাশিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তারা।
জমিয়তের নেতারা বলেন, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে কোনো শ্রেণি-পেশা বা শিক্ষাধারার মানুষকে খাটো না করে সকল নাগরিকের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় সোচ্চার থাকা জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব। তারা দাবি করেন, সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সাধারণ মানুষের অনুভূতি ও প্রত্যাশা সম্পর্কে অধিক সংবেদনশীল থাকেন।
বিবৃতিতে কওমি শিক্ষা ব্যবস্থা সরকারি বরাদ্দ ছাড়াও দেশের জনগণের সহযোগিতায় এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। একই সঙ্গে নিলুফা চৌধুরীকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে কওমি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও আলেম সমাজের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়।
পাশাপাশি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে বিভেদ নয়, বরং ঐক্য, সহনশীলতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানায় সংগঠনটি।
