বিশেষ প্রতিবেদক :: জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের প্রধান মাওলানা মাহমুদ আসাদ মাদানী বলেছেন, নিজেকে সংশোধন করতে না পারলে কেউ জাতির নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য হতে পারে না। তিনি বলেন, এখন থেকে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ-এ পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং সেবা, ত্যাগ ও বাস্তব কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব মূল্যায়ন করা হবে।
গত ২৬ ও ২৭ জুন ভারতের নয়াদিল্লি-তে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মাদানি হলে দিল্লি ও যুক্ত মেওয়াত অঞ্চলের আদর্শ জেলা দায়িত্বশীলদের নিয়ে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা মাদানী বলেন, প্রতিটি সমস্যার সমাধানের জন্য কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দিকে তাকিয়ে না থেকে স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ, প্রশিক্ষিত ও যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে। গ্রাম ও মহল্লাভিত্তিক শক্তিশালী টিম গড়ে উঠলে সমাজের সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী সংগঠন শুধু সংবিধান বা কার্যালয়ের মাধ্যমে গড়ে ওঠে না; বরং চরিত্র গঠন, আত্মসমালোচনা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও প্রশিক্ষিত কর্মীর মাধ্যমেই সংগঠনের প্রকৃত ভিত্তি তৈরি হয়। কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এক ও এক যেন দুই নয়, এগারো হয়’—অর্থাৎ ঐক্যবদ্ধ হয়ে একে অপরকে এগিয়ে নিতে হবে এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে।
সমালোচনাকে ভয় না পেয়ে আত্মশুদ্ধির মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিজের দুর্বলতা স্বীকার করাই উন্নতির প্রথম ধাপ।
পারিবারিক জীবনের গুরুত্ব তুলে ধরে জমিয়ত সভাপতি বলেন, একজন সফল সমাজকর্মীর জন্য পারিবারিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। নারীদের সম্মান, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং ভুল হলে ক্ষমা চাওয়ার মানসিকতা একজন মানুষের ব্যক্তিত্বকে আরও মর্যাদাপূর্ণ করে তোলে।
তিনি কর্মীদের প্রতিদিন সংক্ষিপ্ত ডায়েরি লেখার পরামর্শ দিয়ে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ, লক্ষ্য ও সাংগঠনিক কার্যক্রম লিখে রাখলে আত্মমূল্যায়ন সহজ হয়। পাশাপাশি প্রতিটি কাজে মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা ও তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তনের অভ্যাস গড়ে তোলারও আহ্বান জানান।
দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের মহাসচিব মাওলানা হাকিমউদ্দিন কাসেমী। তিনি বলেন, সংগঠনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো প্রশিক্ষিত, নিষ্ঠাবান ও আদর্শবান কর্মীবাহিনী। তাই সাংগঠনিক প্রশিক্ষণকে আরও শক্তিশালী করা সময়ের দাবি।
কর্মশালায় সংগঠনের বিভিন্ন বিভাগ ও প্রকল্প নিয়ে পৃথক প্রশিক্ষণ সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মডেল ভিলেজ, সম্প্রীতি ফোরাম, দ্বীনি শিক্ষা বোর্ড, সমাজ সংস্কার, প্রাক-বিবাহ ও নিকাহ কাউন্সেলিং, কল্যাণ কার্যক্রম, দারসে কোরআন, মডেল মসজিদসহ বিভিন্ন বিষয়ে উপস্থাপনা করা হয়। প্রতিটি সেশনের শেষে অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্নের উত্তর এবং বাস্তবভিত্তিক দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
সমাপনী অধিবেশনে বিভিন্ন জেলার দায়িত্বশীলরা নিজ নিজ এলাকার সাংগঠনিক কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে জেলা পর্যায়েও একই ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। শেষে দোয়ার মাধ্যমে কর্মশালার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
সূত্র: জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ
