আন্তর্জাতিক ডেস্ক: লেবাননে গত মার্চ মাস থেকে চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। মঙ্গলবার বৈরুতে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং লেবাননের শ্রম মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘সামাজিক ন্যায়বিচার.. শোভন কর্মসংস্থান’ শীর্ষক একটি সেমিনারে এই তথ্য জানান লেবাননে নিযুক্ত জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয়কারী ইমরান রিজা। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে লেবাননের প্রায় ১৪ লাখ মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।
জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা বলেন, মানবিক সহায়তা যতই জরুরি হোক না কেন, তা বর্তমান সংকট মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত নয়। লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি কেবল একটি মানবিক সংকট নয়, বরং এটি একটি গভীর আর্থ-সামাজিক সংকট। নিরাপত্তার অভাব, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো এবং মৌলিক পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বহু পরিবার বারবার এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত ও বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছে। ইমরান রিজা জোর দিয়ে বলেন, এই সংকট কর্মবাজারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। মানুষের শুধু খাদ্য, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষাই প্রয়োজন নেই, বরং তাদের মর্যাদা রক্ষা ও পরিবারের ভরণপোষণের জন্য টেকসই আয় এবং কর্মসংস্থান প্রয়োজন। বর্তমান অনিশ্চয়তা, ক্ষতিগ্রস্ত বাজার, মূল্যবৃদ্ধি এবং তারল্য সংকটের কারণে লেবাননের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো চরম চাপের মধ্যে রয়েছে। ফলে শ্রমিকরা চাকরি হারাচ্ছেন এবং তাদের মজুরি ও ক্রয়ক্ষমতা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে।
সেমিনারে লেবাননের শ্রমমন্ত্রী মোহাম্মদ হায়দার বলেন, এই উদ্যোগটি লেবানন এবং তার সরকারের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি সময়ে গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জগুলোর সাথে কর্মবাজার রক্ষা করা, প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সংলাপ জোরদার করার বিষয়টি এখন সবচেয়ে জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, লেবানন একের পর এক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক ও আর্থিক পতন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি আগ্রাসন দেশের জাতীয় অর্থনীতি এবং কর্মবাজারে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উৎপাদনশীল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে অসংখ্য শ্রমিক তাদের চাকরি ও আয়ের উৎস হারিয়েছেন। ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে দক্ষিণ লেবাননের পাশাপাশি রাজধানী বৈরুত এবং এর দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলির বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, যা দেশের প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।
টিএইচএ/
