ভাগ্নিকে যৌন নিপীড়নের মামলায় ইসতি মেডিকেলের এমডি কারাগারে

by Masudul Kadir

নিজস্ব প্রতিবেদক :: উচ্চশিক্ষিত আর উঁচুতলার নবাব ইসতি মেডিকেল বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফয়সালকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। নিজের বোনের মেয়ে (ভাগ্নি) ১৬ বছরের কিশোরীকে যৌন পীড়নের অভিযোগে গুলশান থানার মামলায় আত্মসমর্পণের পর ইসতি মেডিকেল বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফয়সালকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহ আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর এ আদেশ দেন।

বিজ্ঞাপন
banner

এর আগে আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন ফয়সাল। তার পক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ার জাহিদ ভুঁইয়া সম্পাদক আবুল কালাম খান, সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা খানসহ একাধিক আইনজীবী শুনানি করেন। তারা আদালতে বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে আসামির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনার একমাস পর মিথ্যা অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। যেকোনো শর্তে আসামির জামিন চেয়ে শুনানি করেন তারা।

অপরদিকে বাদীপক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদ্য সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট খোরশেদ মিয়া আলম, সাবেক সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হাসান মুকুলসহ একাধিক আইনজীবী শুনানি করেন। এসময় তারা আসামির জামিনের বিরোধিতা করেন। পরে আদালত আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালতে প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক তাহমিনা আক্তার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ২৩ এপ্রিল ভিক্টিমের বাবা মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আসামি তার শ্যালক। তার তিন মেয়ের মধ্যে ২ জন পড়াশোনার জন্য বিদেশে অবস্থান করে। তার স্ত্রী মাঝে মধ্যে তাদের দেখাশোনার জন্য বিদেশে যায়। তার ছোট মেয়ে তাদের সঙ্গে থাকে একটি কোচিং সেন্টারে লেখাপড়া করে। আসামি ২০২৫ সালের ২১ জুন বিভিন্নভাবে তার মেয়েকে ঘুরতে যাওয়াসহ বিভিন্ন প্রলোভন দেখায়। যেহেতু আসামি আপন মামা হওয়ায় তার মেয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যায়। ঘুরতে গেলে আসামি নিজে ধূমপান করার সময় কৌশলে তার মেয়েকে ধূমপান করানোর চেষ্টা করে। কিন্তু সে তার কথায় ধূমপান করে না। পরে ২৪ জুন মেয়েকে দুপুরে তার গুলশান থানাধীন কনকর্ড সিলভি হাইটস (৪র্থ তলা) ইসতি মেডিকেল বাংলাদেশের অফিসে লাঞ্চ করার জন্য ফোন করে যেতে বলে। তার কথামতো সে অফিসে যায় এবং সেখানে লাঞ্চ করে। পরে আসামি তার অফিসের বেলকোনীতে নিয়ে পুনরায় ধূমপান করানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। ওই রাতে গাড়িতে করে মেয়েকে বাসায় পৌঁছে দেয়ার জন্য বের হয়। আসামি নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করতে ছিলো। পথিমধ্যে আমেরিকান ক্লাব রোডে এসে মেয়েকে গাড়ি চালানো শিখানোর কথা বলে। এসময় ভিকটিমকে ড্রাইভিং সিটে তার কোলে বসতে বলে। কোলে বসতে অনিচ্ছা পোষণ করলে সামনের দুই ছিটের মাঝখানে বসিয়ে গাড়ি চালানো শিখাতে শুরু করে। তখন আসামি আকস্মিকভাবে আক্রমনাত্মক হয়ে ওঠে ভিকটিমকে যৌন নিপীড়ন করে। ভিকটিম বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে অসুস্থতার ভান করে বাসা যাওয়ার কথা বললে তাকে বাসায় পৌঁছে দেয়া হয়। তার এহেন কাজে ভিকটিম মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে পারিবারিকভাবে সম্পর্কের অবনতি হওয়ার সম্ভাবনার কথা চিন্তা করে ঘটনা সম্পর্কে কাউকে কিছু বলেননি। গত ১৭ এপ্রিল ভিকটিমের বড় বোনের বিয়ের দিন মোহাম্মদ ফয়সাল বাসায় এলে ভিকটিম তাকে দেখে চিৎকার করে ওঠে এবং গালিগালাজ করে। তখন বাদীসহ পরিবারের লোকজন ঘটনার বিষয়ে জানতে পারেন।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222