আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের জন্য ভক্তদের দেওয়া কোটি কোটি রুপির অনুদান আত্মসাতের ঘটনায় এবার উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বিজেপি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি।
মঙ্গলবার ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়। বহুল আলোচিত এই অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনাটি বর্তমানে সমগ্র ভারতজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং এটি একটি বড় রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যার জেরে বিরোধী দলগুলো যোগী আদিত্যনাথ সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।
এর আগে সোমবার উত্তর প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় বিজনৌর জেলায় আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে হায়দরাবাদের ফায়ারব্র্যান্ড আইনপ্রণেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসি যোগী সরকারকে ব্যঙ্গ ও তীব্র আক্রমণ করে বলেন, রামমন্দির ট্রাস্টে যদি কোনো মুসলিম সদস্য থাকতেন এবং তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠত, তবে এতক্ষণে রাজ্য সরকার তাকে ভুয়ো এনকাউন্টারে হত্যা করত এবং তার বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিত।
ওয়াইসি অভিযোগ তোলেন, এই অর্থ চুরির ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে প্রশাসন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিলম্ব করছে, এমনকি পুলিশ অপরাধীদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন পর্যন্ত করছে না। জনসভায় উপস্থিত জনতা জোরালো করতালির মাধ্যমে তার এই বক্তব্যের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বিতর্কিত রামমন্দিরের উদ্বোধন করেছিলেন, যেখানে ভক্তরা কোটি কোটি রুপির আর্থিক অনুদান ও সোনা-দানা দান করেন। উদ্বোধনের আড়াই বছর পর এখন সেই অনুদানের কোটি কোটি রুপি নয়-ছয় ও আত্মসাতের প্রমাণ মেলায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মন্দিরের অনুদান তহবিল থেকে ঠিক কী পরিমাণ অর্থ চুরি গেছে তার সঠিক পরিসংখ্যান এখনো নিশ্চিত হওয়া না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে প্রায় ৭ থেকে সাড়ে ৭ কোটি রুপির নগদ অর্থের কোনো হিসাব মিলছে না। পুলিশ এ পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে মাত্র ৮০ লাখ রুপি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এই কেলেঙ্কারির জেরে ট্রাস্টের শীর্ষ কর্মকর্তা চম্পত রাইয়ের পদত্যাগের পর অপর ট্রাস্টি অনিল মিশ্রও ইতিমধ্যে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
গত ২৫ জুন ট্রাস্টের সদস্য কৃষ্ণ মোহনের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এই ঘটনায় প্রথম এফআইআর দায়ের করা হয়, যেখানে অনুদান গণনার কাজে যুক্ত আটজন কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামাশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রাম শঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু। এদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই তীব্র বিতর্কের মুখে গত ২৬ জুন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এক বিবৃতিতে দাবি করেন, জনসাধারণের ধর্মীয় আস্থা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করেছে এমন যেকোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে তার রাজ্য সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করবে।
টিএইচএ/
