৬ খুনে ইনুর ১০ বছরের জেল! মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে উত্তাল দেশ

by hsnalmahmud@gmail.com

চিফ রিপোর্টার:: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় ৬ জনকে হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।

তবে আদালত এই রায়ে ইনুর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করলেও, মাত্র ১০ বছরের কারাদণ্ডের এই সাজা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠন ইনুর সর্বোচ্চ শাস্তি তথা মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে এই রায়কে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের প্রতিক্রিয়া

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির ছাত্রনেতা এইচএম নূরুল আমীন ৩৬ নিউজকে বলেন, ‘জুলাই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড এবং ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসর হাসানুল হক ইনুর অপরাধ যেখানে প্রমাণিত হয়েছে, সেখানে ১০ বছরের সাজা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এই রায়ে ক্ষুব্ধ এবং তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

জুলাই আন্দোলনের নায়ক এনসিপি-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘হাসানুল হক ইনুর রায় বাংলাদেশের জনগণকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে যে ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে, সেখানে গণহত্যার মূল হোতাদের এমন লঘু দণ্ড শহীদানদের রক্তের সাথে উপহাসের শামিল।’

বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি মুহাম্মদ জাহিদুজ্জামান ৩৬ নিউজকে বলেন, ‘জুলাই গণহত্যায় সরাসরি মদদদানকারী এবং ফ্যাসিবাদের অন্যতম স্তম্ভ হাসানুল হক ইনুর একমাত্র শাস্তি হওয়া উচিত ফাঁসি। আমরা অবিলম্বে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে তার মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার দাবি জানাই।’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা ৩৬ নিউজকে বলেন, ‘হাসানুল হক ইনু বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশে ইসলামবিদ্বেষ ছড়িয়েছেন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যায় সরাসরি উসকানি দিয়েছেন। ছয়টি খুনের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও তাকে মৃত্যুদণ্ড না দেওয়া চরম দুর্ভাগ্যজনক। জনগণ এই সাজা মানে না।’

একই সুর শোনা গেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জুলাই আন্দোলন সংগঠনগুলোর কণ্ঠেও। সংগঠনটির সমন্বয়করা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, খুনিদের পুনর্বাসন বা লঘু শাস্তি দেওয়ার কোনো চেষ্টা ছাত্র-জনতা মেনে নেবে না। অবিলম্বে ইনুর ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে।

রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে রাষ্ট্রপক্ষ

আদালতের এই রায়ে খোদ রাষ্ট্রপক্ষও সন্তুষ্ট হতে পারেনি। ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ প্রসিকিউশন সফলভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আমরা ট্রাইব্যুনালে তার সর্বোচ্চ সাজা (মৃত্যুদণ্ড) চেয়েছিলাম। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমরা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব এবং ইনুর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।”

‌জোড়া নীতির তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ

এই রায়কে কেন্দ্র করে দেশের বিচার ব্যবস্থার অতীতের কিছু রায়ের সাথে তুলনা করে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। সচেতন মহল ও মানবাধিকার কর্মীরা প্রশ্ন তুলছেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলায় যেখানে লুৎফুজ্জামান বাবরসহ আট আসামিকে খালাস বা মুক্তি দেওয়া হলো, অথচ কোনো অকাট্য প্রমাণ ছাড়াই হাফেজ নাঈমের মতো তরুণকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছিল—সেখানে ইনুর মতো একজন হেভিওয়েট আসামির বিরুদ্ধে সরাসরি ৬টি খুনের অপরাধ প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও তাকে মাত্র ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলো কোন যুক্তিতে? এই বৈষম্যমূলক বিচার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ক্রমশ দানা বাঁধছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড়

আদালতের রায়ের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক যেন ক্ষোভের আগ্নেয়গিরিতে পরিণত হয়েছে। সাধারণ ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ইনুর ফাঁসির দাবি তুলছেন।

ফেসবুকে শফিকুল ইসলাম লিখেছেন, ‌ইনুর মৃত্যুদণ্ড চাই, এই সাজা মানিনা।’

আরেক জনপ্রিয় অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট আহমেদ জোবায়ের তার ওয়ালে লিখেছেন, “যে লোকটার উসকানিতে কুষ্টিয়ায় ৬টি তাজা প্রাণ ঝরে গেল, তার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও মাত্র ১০ বছরের জেল? এটা শহীদদের আত্মার সাথে বিট্রে করা। ইনুর একমাত্র শাস্তি ফাঁসি।’

নাসরিন সুলতানা নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী লিখেছেন, ‌সুরঞ্জিত মামলায় বাবরদের মুক্তি আর হাফেজ নাঈমের মৃত্যুদণ্ড—এই দেশের বিচার ব্যবস্থার তামাশা আমরা দেখেছি। কিন্তু জুলাই বিপ্লবের পর ইনুর মতো গণহত্যাকারীকে ১০ বছরের জেল দিয়ে পার করে দেওয়া যাবে না। ইনুর ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হাসানুল হক ইনুর এই লঘু শাস্তির রায় দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় নতুন করে উত্তাপ সৃষ্টি করতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত আপিল প্রক্রিয়া শুরু না হলে এই আন্দোলন আরও বেগবান হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222