বাংলাদেশের একজন মশহুর মুদাররিস ও শাইখুল হাদীস, জাহেদ সুফী, মুফাক্কির ও মুহাক্কিক আলেমে দ্বীন আল্লামা শায়খ আবু সাবের আব্দুল্লাহ।
১৯৬৪ সনের পহেলা জানুয়ারি, ফেনী জেলাধীন সোনাগাজী থানার ওলামাবাজার গ্রামে জন্ম। এক সম্ভ্রান্ত দীনদার পরিবারে বেড়ে ওঠা। পিতা হাজী আব্দুর রব সওদাগর ইবনে আব্দুল গনী ইবনে আশরাফ আলী রহ.। মাতা আঙুরুন নিসা বিনতে বদিউজ্জামান রহ.।
বাড়ির লাগোয়া সুবিখ্যাত দ্বীনী দরসগাহ ‘দারুল উলুম আলহোসাইনিয়া ওলামাবাজার ফেনী’ মাদরাসায় শিক্ষা-দীক্ষার সুচনা। আশৈশব পরিচ্ছন্ন জীবনের অধিকারী শায়খ এখানকার মুত্তাকি-পরহেযগার উস্তাজগণের স্নেহছায়ায় মক্তব থেকে হেদায়া জামাত (উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষ) পর্যন্ত বাংলা আরবি উর্দু ফার্সিসহ বিভিন্ন শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং মাওলানা আব্দুল হালীম ওলামা বাজারের হুজুর রহ., মাওলানা আহমদ করীম মুহাদ্দিস সাহেব রহ. ও মাওলানা নুরুল ইসলাম আদীব সাহেব প্রমুখের মতো নেক্কার আলেমগণের সংস্বর্গ থেকে দ্বীনের বুনিয়াদি সমঝ-ফাহম অর্জন করেন।
১৪০৩ হিজরিতে ঢাকার প্রাগ্রসর দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগে’ দাখিল হন এবং ‘দাওরায়ে হাদিস’ পর্যন্ত পাঠ গ্রহণ করেন। মাওলানা কাজী মু’তাছিম বিল্লাহ এবং মাওলানা নুর হোসাইন কাসেমী প্রমুখ (রহিমাহুমুল্লাহ) এর সান্নিধ্যে তাঁর চিন্তা-চেতনা ও মন-মানসিকতা বিনির্মাণ হয়।
১৪০৭ হিজরিতে ‘দারুল উলুম দেওবন্দে’ পুনরায় তিনি দাওরায়ে হাদিসের কিতাবসমুহ অধ্যয়ন করেন এবং আল্লামা নেয়ামতুল্লাহ আজমী, হযরত সাইয়েদ আরশাদ মাদানী ও সাঈদ আহমদ পালনপুরী রহ. এর মতো মণিষীগণের শিষ্যত্ব লাভ করেন। এবং আকাবিরে উলামায়ে দেওবন্দের রচনাবলি থেকে মেযাজে শরিয়ত ও দ্বীনের রুচি-প্রকৃতি আত্মস্থ করার প্রতি নিবিষ্ট হন।
তাঁর কয়েক বছরের একান্ত সহপাঠীদের মাঝে কীর্তিমান লেখক মাওলানা হেমায়েত উদ্দীন ও শায়েখ আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম দামাত বারাকাতুহুমের নাম বিশেষভাবে স্মরণীয়।
কর্মজীবনে চল্লিশ বছর যাবৎ হাদিস ও তাফসিরের একনিষ্ঠ শিক্ষক ও গবেষক। মুশফিক মুরুব্বি। নিভৃতচারী সূফী, খানকাহে রশিদিয়া ঢাকার প্রতিষ্ঠাতা মুর্শিদ। জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ, মিফতাহুল উলুম বাড্ডা, জামিয়া সাঈদিয়া ভাটারা ও জামিয়া শেখ আব্দুল্লা মুন্সিগঞ্জের শায়খুল হাদীস।
অধ্যয়নমনস্কতা, ফিকরি ভারসাম্য, জ্ঞানগভীরতা এবং ইখলাস ও সাদেগীর কারণে পরিচিত পরিমণ্ডলে খুবই আস্থাভাজন। শরঈ মাসায়েল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁর দাঈআনা দৃষ্টিভঙ্গি ও সুরুচি প্রশংসনীয়। দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে তার নির্দেশনা ও বিশ্লেষণ চিন্তার খোরাক যোগায়।
তার রচনাবলির মাঝে-তিরমিযি শরিফ দ্বিতীয় খণ্ডের আরবি-উর্দু ব্যখ্যাগ্রন্থ ‘আউনুত তিরমিযি’, শামায়েলে তিরিমিযির বাংলা- ‘আলমাওয়াহিবুল ইলাহিয়্যা আলাশ শামাইলিন নাবাবিয়্যাহ’, ‘খেলাফত ও রাজনীতি: ইসলামী দৃষ্টিকোণ’, ‘কোরআন বোঝার চেষ্টা: আমাদের করণীয়’, ঈমানের দাবি, তাকওয়া ও তাযকিয়া, আমানতু বিল্লাহ, আহলে হকের পরিচয় ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
পারিবারিক জীবনে এক পুত্র এবং ছয় কন্যার জনক। তাসাউফের ক্ষেত্রে হযরত শাহ আহমদ শফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর খলিফা।
পূর্ববর্তী মুহাদ্দিসীন, মুজাহিদীন, ফোকাহা ও মুতাকাল্লিমীন এবং সালাফে সালেহীনের প্রতি শ্রদ্ধা ও শোকরগুযারি তাঁর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। পড়াশোনা এবং শিক্ষকতাই তার প্রধান ব্যস্ততা। আকাবিরে দেওবন্দের প্রতি তাঁর ভক্তি ঈর্ষণীয়। সর্বক্ষেত্রে জমহুর উলামায়ে কেরামের সাথে ঐক্যবোধ করেন, প্রখ্যাত আলেম ফকিহুল আসর মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক দামাত বারাকাতুহুমের সঙ্গে সবিশেষ ঘনিষ্টতা রাখেন। বিশিষ্ট মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল মতিন এবং প্রসিদ্ধ লেখক মাওলানা আহমদ মাইমুন প্রমুখের তিনি সহকর্মী।
দ্বীনের হেফাজত, এশাআত এবং এলায়ে কালিমাতুল্লাহর জন্য তাদরিস, তালিফ ও তাযকিয়া পথে শায়খের সমস্ত শ্রম নিবেদিত। আল্লাহ তাআলা তাঁর মেহনত কবুল করুন, আমাদের সকলকে দুনিয়া ও আখেরাতের তামাম ভালাই নসিব করুন, আমীন।
লেখক : মুহাদ্দিস, জামিয়াতুন নূর আল ইসলামিয়া ঢাকা
১২/১/১৪৪৮হি.
২৯/৬/২০২৬ঈ.
