৩৬নিউজ ডেস্ক: টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার জেলাজুড়ে বন্যা ও পাহাড়ধস পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ৯টি উপজেলার অন্তত ৩৩টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ধস ও মাটির দেয়াল ধসের পৃথক ঘটনায় নারী ও শিশুসহ এ পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নতুন করে প্রাণহানি এড়াতে প্রশাসন ইতোমধ্যে পাহাড়ি এলাকা থেকে সহস্রাধিক মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১২৯ মিলিমিটার এবং পরবর্তী ৯ ঘণ্টায় আরও ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারী বর্ষণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রামু ও চকরিয়ার অন্তত ১৪টি ইউনিয়ন। শত শত ঘরবাড়িতে পানি ঢোকার পাশাপাশি জেলাজুড়ে পাহাড়ধস ও দেয়ালধসে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে আটজন, কক্সবাজার শহরের দরিয়ানগরে একজন নারী, পেকুয়ায় পাহাড়ধসে এক শিশু এবং উখিয়ার থাইংখালীতে কাঁচা ঘরের দেয়াল ধসে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা, হোয়াইক্যং ও সাবরাং ইউনিয়নে পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে টানা পাঁচ দিন ধরে টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে সব ধরনের নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে, যা দ্বীপে তীব্র খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকটের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে দ্বীপের দুইজন এইচএসসি পরীক্ষার্থী সময়মতো মূল ভূখণ্ডে পৌঁছাতে না পারায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তাদের পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার বিশেষ আবেদন পাঠিয়েছে জেলা প্রশাসন। এছাড়া কুতুবদিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল সড়কের একটি জরাজীর্ণ সেতু ধসে পড়ে দুই ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও কোস্ট গার্ড যৌথভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, পাহাড়ধসের ঝুঁকি এড়াতে সদর, রামু, উখিয়া ও টেকনাফের পাহাড়ে বসবাসকারীদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং সার্বক্ষণিক মাইকিং চলছে। সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান সতর্ক করে জানিয়েছেন, আগামী দুই দিনও জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভূমিধস ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
টিএইচএ/
